গরুর দুধে সোনা পাওয়া থেকে দুর্গার পূর্বপুরুষের নাম নিয়ে প্রশ্ন- রাজ্যের বর্তমান মন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) বক্তব্যে এমন মণিমুক্ত ছড়ানোই থাকে। তবে যেখানে 'বন্দে মাতরম' নিয়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) পর্যন্ত অত্যন্ত আবেগপ্রবণ, ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের (Bankim Chandra Chatterjee) লেখা 'বন্দে মাতরম'-কে জাতীয় গান হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, সেখানে তাকে 'কবিগুরুর রচনা' বলে ফের বিতর্কে জড়ালেন দিলীপ। তাও আবার সেই দিন, যেদিন বিকেলে যাদবপুরে স্বয়ং বন্দে মাতরমে গলা মিলিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বন্দে মাতরম-এর দেড়শো বছর উপলক্ষ্যে ২০২৫ থেকেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। জাতীয় গান হিসেবে স্বীকৃত বন্দে মাতরম গাওয়ার সময়ও জাতীয় সঙ্গীতের মতোই তাকে সম্মান দেওয়ার বিধি চালু হয়েছে। এমনকী বন্দে মাতরমের দুটোর বদলে চারটি স্তবক গাওয়ার নির্দেশও রয়েছে। যদিও এসব নিয়ে বিতর্ক আছে। কিন্তু বন্দে মাতরম যে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের রচনা- তা নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। এটি তাঁর বিখ্যাত 'আনন্দমঠ' উপন্যাসের অন্তর্গত।

শুক্রবার সকালে এই 'বন্দে মাতরম' নিয়েই ফের বেফাঁস মন্তব্য করলেন দিলীপ। প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হওয়াটা তাঁর অভ্যাস। সেই মতো এদিন সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘‘রাখি আমাদের একটি ঐতিহ্য। সামাজিক বন্ধন। এটা ভাইবোনের উৎসব ছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে রবি ঠাকুর সেটাকে বের করে এনে, বন্দে মাতরম গান লিখে বঙ্গভঙ্গ রোধ করেছিলেন।" 

এদিনই যাদবপুর এইট বি বাসস্ট্যান্ড চত্বরে ১০ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম গাওয়ার এক বিশাল কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। যেখানে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত হয়ে জাতীয় পতাকা হাতে বন্দে মাতরমের চারটি স্তবকে গলা মেলান। আর এই দিনই 'বন্দে মাতরম' রবীন্দ্রনাথের লেখা বলে ফের বিতর্ক বাড়ালেন দিলীপ।

তাহলে কি বন্দে মাতরম-এর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের কোনও যোগ নেই? আছে। ইতিহাস বলছে, রবি ঠাকুর নিজে 'বন্দে মাতরম'-এর প্রথম দুটি স্তবকে সুর দিয়েছিলেন এবং ১৮৯৬ সালে কলকাতায় জাতীয় কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশনে উদ্বোধন সঙ্গীত হিসেবে তিনি নিজে এই গান গেয়েছিলেন। তবে এই গানের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ এমন কোনও কথা ইতিহাসে অন্তত পাওয়া যায় না। ফলে আবার মন্তব্য করে বিতর্কে দিলীপ।