“রাজ্যে আগে শিল্প বন্ধ হওয়ার কথা শোনা যেত। এখন বাংলায় শুধুই বিনিয়োগের খবর আসছে।” রবিবার গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্সের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে প্রশংসায় ভরালেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। আর গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE)-এর ৩,৪০০ কোটি টাকার বিনিয়োগকে ঐতিহাসিক বলে রাজনাথকে কৃতজ্ঞতা জানালেন শুভেন্দু। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে “কথা দিয়ে কথা রাখার মানুষ“- বলে বর্ণনা করেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী। 

গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্সে এদিন যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের লক্ষ্যে আরও পাঁচটি নতুন প্রকল্পের শিলান্যাস হয়। ৩৪০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে। নয়া প্রকল্পের ভূমিপুজোয়  ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী-সহ কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা সচিব, জিআরএসই-র পদস্থ আধিকারিকেরা, রাজ্যের মুখ্য সচিব, এমএসএমই (MSME)-র বিশিষ্ট শিল্পপতিরা। একে ঐতিহাসিক বলে মন্তব্য শুভেন্দুর। 

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পূর্বতন সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও দফতরের সঙ্গেই যৌথ ভাবে কাজ করতে চাইত না। জমি, দক্ষ মানবসম্পদ, পরিকাঠামো এবং কাঁচামালের মতো প্রয়োজনীয় সমস্ত রসদ থাকা সত্ত্বেও এই অসহযোগিতার কারণে পশ্চিমবঙ্গ বছরের পর বছর ধরে পিছিয়ে পড়েছে। তবে এখন ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার ফুল স্পিডে দৌড়চ্ছে।“ 

 

দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে রাজনাথ সিংয়ের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে ভারতীয় সেনা যেভাবে শত্রুপক্ষকে যোগ্য জবাব দিয়েছে এবং ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তিতে দেশরক্ষা বলয়কে সুরক্ষিত করেছে, তা বিশ্বের সামনে এক দৃষ্টান্ত। প্রধানমন্ত্রী মোদীর অনুপ্রেরণায় এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর যোগ্য নেতৃত্বে ভারত বিশ্বমঞ্চে ডিফেন্স সেক্টরের  পরিচালক হয়ে উঠছে। স্বামী বিবেকানন্দের ‘চরৈবেতি চরৈবেতি’ নীতিকে পাথেয় করে রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে ভারতীয় সেনা আগামী দিনে গোটা বিশ্বের সামনে নতুন নেতৃত্বের নজির গড়বে।“

 

পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করেন রাজনাথ। বলেন, “বাংলার বাতাসে নতুন গন্ধ। এটি শুধু পরিবর্তন নয়, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে এই পরিবর্তন আসলে উন্নয়নের পথ।” বিগত শাসকদলগুলিকে ঠুকে রাজনাথ বলেন, “বাংলায় এতদিন শিল্প বন্ধ হওয়ার কথা শোনা যেত। বাংলায় শুধুই বিনিয়োগের খবর। বর্তমানে নতুন সরকার শিল্পের বিকাশ, উন্নয়ন করছে।”

পালাবদলের পর সীমান্ত সুরক্ষায় রাজ্য ১১০০ একর জমি দিয়েছে। সেই কথা উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, “এই প্রকল্প নতুন অনুসারী শিল্পের জন্ম দেবে। বন্দে মাতরম মন্ত্র দিয়েছে বাংলা। নবজাগরণের সাক্ষী দিয়েছে বাংলা। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও ভূমিকা নিয়েছে বাংলা। শিল্প নবজাগরণের পথে হাঁটছে বাংলা। পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের ফলাফল সুদূরপ্রসারী।”