রাজ্য জুড়ে সৌভ্রাতৃত্ব, একতা এবং সামাজিক সংহতির বার্তা পৌঁছে দিতে এক বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। সমগ্র রাজ্যে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে পালিত হতে চলেছে ‘রাখী বন্ধন উৎসব’। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী নজরুল মঞ্চ থেকে শুরু করে একেবারে জেলা, ব্লক ও গ্রাম পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত এই উৎসব উদযাপনের সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে প্রশাসন।

এই মেগা কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যের প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষের হাতে রাখী তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে প্রায় ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এই উৎসবের আওতায় নিয়ে আসার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। সরকারি স্তরে এত বড় পরিসরে রাখীবন্ধন আয়োজনের লক্ষ্য মূলত সমাজের নানা অংশের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে উদযাপন করা।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, বাংলায় রাখীবন্ধন উৎসবের গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও অটুট ঐক্যের প্রতীক হিসেবে এই উৎসবকে গণআন্দোলনের রূপ দিয়েছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সেই ঐতিহ্য ও চেতনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই রাজ্য সরকার এবার তৃণমূল স্তর পর্যন্ত উৎসবকে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের বক্তব্য, রাখীবন্ধন কেবল একটি প্রথা নয়, এটি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ঐক্যের এক শক্তিশালী মাধ্যম। রাজ্য সরকারের এই সুসংহত পরিকল্পনার মাধ্যমে ছাত্র-যুব থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক—সকলের মধ্যেই সম্প্রীতির এই চিরন্তন বার্তা নতুন করে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।