বালিশ শিবিরের (Ritabrata's camp) দৈন্যদশা আবার হাট খোলা হয়ে গেল। প্রথমবার হয়েছিল ২১ জুলাইয়ে, আর এবার হল ২৮ অগাস্টে। দুটি সমাবেশে কার্যত মাছি তাড়াল বালিশরা। শুধু ফাঁকা চেয়ার গোনা গেল তাই নয়, মিডিয়া শত চেষ্টা করেও ২৫১জনের বেশি লোকজন দেখাতে পারেনি। তাও একটি নির্দিষ্ট সময়ে। যার মধ্যে ৩০ শতাংশ আবার বেইমানদের সাদা পোশাকের পুলিশি পাহারাদার। এই সংখ্যার মধ্যে পড়ুয়া সংখ্যা মেরে কেটে ৭শতাংশ। এই হাসির পরিস্থিতি তৈরি করার পরেও নির্লজ্জ ওদের বালিশ নেতা। বলছে, ওরাই নাকি তৃণমূল! 

ওখানে সব তাবড় নেতা। তার মধ্যে বিশেষ করে বলতে হয় অরূপ বিশ্বাস (Arup Biswas), ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) কথা। এনারা তো বাংলার শ্রেষ্ঠ সম্পদ। যাদের জন্য যে কোনও মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) একক ছবি নেওয়া যেত না। নেত্রীর জেলা সফরে অরূপের কাজই ছিল নেত্রীর ব্যাগ বয়ে নিয়ে যাওয়া আর সাংবাদিক সম্মেলন করলে পিছনে দাঁড়িয়ে 'আমি সারাক্ষণ আছি দিদির সঙ্গে' ঘোষণা করা। এবং কী আশ্চর্য দেখুন ২৮ এর মঞ্চে উঠে দুজনেই যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাক করেছেন, তাতে একটা জিনিস পরিস্কার হয়, আপনি বাঁচলে বাপের নাম। এখন আমি ইসের মাংসটা নতুন খেতে শিখেছি তো, তাই বিপ্লব তো আমরাই করব! 

কিন্তু প্রশ্নটা অন্য জায়গায়। এই দুই বিরাট নেতাদের অনুগামীরা কোথায় গেলেন? তারা যদি নিজেদের এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে একজন করে লোক আনতেন তাহলে অন্তত ৫০০জন লোক হয়। কেন আনলেন না? নাকি আনতে পারলেন না! বুঝুন ঠ্যালা, এমন দলে নাম লিখিয়েছে যে দলের লোকজন সব পাশ থেকে হাওয়া। যাদের এলাকাতেই বিশ্বাস্যোগ্যতা নেই, তারা বলছে আসল তৃণমূলের কথা! কলকাতা মেয়রের মেয়াদটা নেত্রী ফিরহাদকে শেষ করতে বলেছিলেন। কারণ, মানুষ অসুবিধায় পড়বেন। কিন্তু উনি দেশে-বিদেশে এত মনি-মানিক্য ছড়িয়ে রেখেছেন এবং প্রতি মুহূর্তে বিজেপি এমন সব হুড়কো দিচ্ছিল যে আর তর সয়নি।  রইলো তোমার এ ঘর দুয়ার, কেষ্টারে লয়ে থাক!! 

অরূপের আবার দুই ধাক্কা। মেসিকাণ্ডে এমনভাবে বিজেপির পাতা জালে জড়ালেন যে বাঁচতে তাদের পায়ে ডাইভ দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। মান-সম্মান-বিশ্বাসযোগ্যতা চুলোয় যাক। জেল জীবন? ও বাবা আমি এখন এই বয়সে আর নিতে পারব না! নির্লজ্জের মতো দলের তথ্য বিজেপির হাতে তুলে দিতে হাত কাঁপেনি! মিথ্যা বয়ান দিয়ে বিপদে ফেলতেও দুবার ভাবতে হয়নি। এটাই তো বাঁধিয়ে রাখার মতো বিশ্বাসযোগ্যতা। অরূপের আবার ভাই লক্ষ্মণ আছে। তাকেও দেখতে হচ্ছে। মোটামুটি একটা স্টেবল পজিশনে নিয়ে এসেছেন মামলা। এবার সবার অলক্ষ্যে কোনও এক সন্ধ্যায় শুনবেন, বেডরুমে বসে দুই ভাই চা খাচ্ছেন!

বালিশদের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান না বলে  আঠাশের দুপুরে যা হল তা আসলে স্ট্রিট কর্নারিং। বাকি যারা বক্তব্য রাখলেন তারা কেন রাখলেন, তা নিজেরাই জানেন না। লক্ষ্যণীয় হল, বেইমান শিবিরের অন্তত ৪২ বিধায়ক অনুষ্ঠান মঞ্চতেই যাননি। জাস্ট উপেক্ষা করেছেন। কারণ, বালিশ-ঋতর কাজ কর্মে তারা যেমন বিরক্ত, তেমনি এলাকায় ঢুকতে না পারার যন্ত্রণা তাদের কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে দূরে থাকার যন্ত্রণা আছে, আছে মিথ্যা বোঝানো আর মিথ্যা প্রতিশ্রুতির কথাও। বিজেপির সামনে মাথা হেঁট করে সারাক্ষণ ভিক্ষাবৃত্তি সহ্য সীমার বাইরে চলে গিয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ মিটিং হলেই বিস্তর গালমন্দ খাচ্ছে বালিশ-ঋত। ঘরের অন্দরে বিরাট অশান্তি। পরপর দুটি সভা ফ্লপ হওয়ার পর বালিশ শিবিরের এক বিধায়ক এক নেতাকে বলেছেন, লোক হাসাতে এসব কর্মসূচি কেন করা হচ্ছে? মানুষের কাছে তো বারবার ধরা পড়ে যাচ্ছি আমরা। প্রমাণ হচ্ছে এক, আমরা আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আলোকে আলোকিত। উনি পাশ থেকে সরে যাওয়ার অর্থ হল, জনসমর্থন শেষ। দুই, বালিশ শিবিরের এক একজনের ব্যক্তি ইমেজ এমন যে দিদি সামনে থাকলে মানুষ মাফ করতেন। উনি পাশে নেই তাই মানুষ জাস্ট উপেক্ষা করছেন। তিন, বিজেপি যাই বলুক আর করুক, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও বাংলায় জনপ্রিয়। তিনিই আসল ক্রাউড পুলার (Crowd-Puller)। কাছাকাছি কেউ আসেন না। চার, এভাবে রাজনৈতিক জীবনে ইতি টানার মানে হয় না। পরের বিধানসভায় প্রার্থী হলে কার সিম্বলে হব? কেউ জানে না। তর্কের খাতিরে যদি জোড়া ফুল সিম্বল পাওয়াও যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ট্যাগ ছাড়া কেউ জিতবেন না। 
তাহলে এভাবে কাদায় ফেলার মানে কী?

প্রশ্ন বালিশ শিবিরে। জবাব দেওয়ার হিম্মতই নেই বালিশ-ঋতর। এটাকে কিসের দশা বলবেন? রাহুর দশা না শনির সাড়ে সাত দশা!!