পাহাড়ের যানজট সমস্যা মেটাতে এবং পর্যটন পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজাতে নতুন উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের মধ্যে বিকল্প পরিবহণ মাধ্যম হিসেবে একটি দীর্ঘ রোপওয়ে তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নবান্নে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে এই সংক্রান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব এবং পর্যটন দফতরের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, প্রস্তাবিত এই রোপওয়ের দৈর্ঘ্য হতে পারে প্রায় ২২ কিলোমিটার। প্রকল্পটি রূপায়িত হলে সড়কপথের উপর গাড়ির চাপ অনেকটাই কমবে এবং পর্যটকরা কম সময়ে পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে দুই শহরের মধ্যে যাতায়াত করতে পারবেন। পাহাড়ের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এটি অত্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের পর্যটনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে সেখানে একটি বৃহৎ যোগ কেন্দ্র বা ইয়োগা হাব গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একসঙ্গে অন্তত এক হাজার মানুষ যাতে সেখানে যোগাভ্যাস করতে পারেন, সেই পরিকাঠামো তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য। এই প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পর্যটন দফতরকে। এ ছাড়াও বৈঠকে ঠিক হয়েছে, আগামী ৪ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্য পর্যটন দপ্তরের নতুন লোগো প্রকাশ করা হবে। পাহাড়ের পাশাপাশি ডুয়ার্সের পর্যটন প্রসারেও বিশেষ নজর দিচ্ছে প্রশাসন। কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারকে কেন্দ্র করে পূর্ব ডুয়ার্সে একটি নতুন পর্যটন সার্কিট তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বন দফতর। এই প্রকল্পের সামগ্রিক রূপরেখা ও কার্যকারিতা খতিয়ে দেখতে দ্রুত একটি বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের। সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে একাধিক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে।
















