বিগত কয়েক দশকে সারা বিশ্বের পাশাপাশি এদেশেও মরণোত্তর দেহদান নিয়ে সচেতনতার মাত্রা অনেকটাই বেড়েছে। রাজনীতিবিদ থেকে অনেক বিশিষ্ট জনরাই মরণোত্তর দেহদান করে যান চিকিৎসা বিজ্ঞানের কাজে লাগার জন্য। কিন্তু এবার দেহদানের বদলে অঙ্গদান করার আবেদন রাখলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (Sharadwat Mukherjee)। তার কথায় শুরু হয়েছে বিতর্ক।
সম্প্রতি নিউটাউনে একটি চক্ষুদান সংক্রান্ত সচেতনতা প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন রাজ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি নিজে একজন চিকিৎসক। সেই মঞ্চ থেকেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেহদান করে লাভ নেই পশ্চিমবঙ্গের উৎসাহী বাঙালি বলে পুরো বডিটাই দান করে দিয়েছি ডাক্তারবাবু। আমি বলছি ওটা করবেন না। দয়া করে তার পরিবর্তে অঙ্গদান করা অনেক বেশি জরুরী। মৃতদেহ নিয়ে এখন শব ব্যবচ্ছেদ দরকার হয় না এখন। তাই দয়া করে দেহদান করবেন না কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে থ্রিডি ইমেজ তৈরি হচ্ছে সেখান থেকেই শেখা যাচ্ছে। ইউরোপ আমেরিকায় ইতিমধ্যেই লাইভ বডি ডিটেকশন বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
নিজের বক্তব্যের সমর্থনে যুক্তি জোরালো করতে ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় আরও বলেন, অনেক শ্রদ্ধার সঙ্গে বলছি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর যে দেহটা দান করেছিলেন মেডিকেল সায়েন্সে তার কোন কাজে আসেনি। যদি আসতো তিনি লাইভ ডোনেশন করতেন সেটা বেশি কাজে লাগত। কোন মানুষের ব্রেন ডেথ হলে তার শরীরে যে অঙ্গগুলি ভালো থাকে কিডনি, হার্ট এগুলি দান করা হয়।
এই বিষয়ে নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের প্রধান ডঃ সুদেষ্ণা মজুমদার বলেন, এখনো প্রচুর মেডিকেল কলেজে মৃতদেহ সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা নেই নিশ্চয়ই ধীরে ধীরে তা হবে। যাদের হাতে মৃতদেহ থাকে না তারা এনআরএস, পিজি, কলকাতা মেডিকেল কলেজের উপরে নির্ভরশীল। এখন অসংখ্য বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হচ্ছে বাংলা জুড়ে সেখানে পরিকাঠামোর সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সম্প্রতি নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজের থেকে দেহ চেয়েছে কৃষ্ণনগর মেডিকেল কলেজ, সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজের মতো কয়েকটি কলেজ। দেহদানের প্রয়োজনীয়তা এখনো ফুরিয়ে যায়নি।
মরনোত্তর দেহদান নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন কাজ করে। তারা মূলত সচেতনতার শিবিরও করে। এই সংগঠনের সম্পাদক সুদীপ্ত সাহা রায় বলেন, অঙ্গদানের যেমন প্রয়োজনীয়তা রয়েছে তেমনি মরণোত্তর দেওদানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। একটি মেডিকেল কলেজে প্রতিবছর চিকিৎসক পডুয়াদের বছরে জন্য ১০ থেকে ১৪টি দেহের প্রয়োজন হয়। কর্মশালার জন্য প্রায়ই মেডিকেল কলেজগুলি থেকে মরণোত্তর দেহের খোঁজ করা হয়। ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশনের হিসেবে অনুযায়ী দশজন চিকিৎসক ছাত্র কিছু একটি করে দেহ প্রয়োজন হয়।
















