২৪ ঘণ্টার মধ্যেই খালপাড় থেকে সব দোকান ও স্টল ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল চণ্ডীপুর ব্লক প্রশাসন। আর এর পরেই শনিবার ধ্বংসস্তূপের চেহারা নিল বরোজ, চৌখালি, কুশলপুর ও উত্তর খালবাড় বাজার। এদিন বরোজ বাজারে প্রশাসনের উদ্যোগে বুলডোজার চালিয়ে অনেক কংক্রিটের বিল্ডিং ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। চৌখালি, কুশলপুরেও দোকানঘর ও স্টল থেকে যাবতীয় মালপত্র সরিয়ে নিজেরা ভাঙাচোরার কাজে হাত লাগান ব্যবসায়ী ও দোকানিরা। পুজোর আগেই এভাবে দুশোর বেশি দোকান ও স্টল ভাঙার কাজ চলল। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার চণ্ডীপুরের মগরাজপুর খালপাড় দখল করে থাকা প্রায় ৪০টি দোকান ও বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় প্রশাসন। বরোজ, চৌখালি-সহ বিভিন্ন জায়গায় খালপাড়ে সেচ দফতরের জায়গায় থাকা দোকানপাট, স্টল খালি করে ভেঙে নেওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পক্ষে চৌখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্যমে একটি আবেদন বিডিওর কাছে পাঠিয়ে বলা হয়েছিল, অন্তত পুজো পর্যন্ত ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য। কিন্তু ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে উত্তর আসার বদলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চলে আসে বুলডোজার। শনিবার  প্রশাসনের বুলডোজার বরোজ, বরুন্দা খালপাড়ের ধারে থাকা বেশ কিছু দোকানপ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। চৌখালি বাজারে নারায়ণদাঁড়ি ও কেতকী খালের দুই পাড়ে অন্তত দেড়শো দোকান ও স্টল ছিল।  খালপাড় দখল করে থাকা দোকান সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়ার নোটিসের পরেও কেউ স্বেচ্ছায় দোকান ভাঙেননি বলে সেচ দফতরের বক্তব্য। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার মাইকিং হওয়ার পরই শনিবার চৌখালির দোকানঘরগুলি থেকে মালপত্র বের করে নেন ব্যবসায়ীরা। অনেকে নিজেরাই নির্মাণ ভেঙে ফেলেন। ফলে মাত্র একদিনের মধ্যেই বরোজ, চৌখালি ধ্বংসস্তূপের চেহারা নিয়েছে। দোকানিদের কথায়, পুজোর জিনিসের স্টক শুরু করেছিলাম। এভাবে পথে বসতে হবে ভাবিনি। এখন কোথায় যাব, কীভাবে রোজগার করব কিছু‌ই জানি না।