রাখিবন্ধন কেবলমাত্র ধর্মীয় আচার নয়, এটি দেশপ্রেমের এক অন্যতম প্রতীক— এই বার্তা দিয়ে লালবাজারের মঞ্চ থেকে পুলিশ প্রশাসনের জন্য একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা পুলিশের সদর দফতরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কর্তব্যরত অবস্থায় সাহসিকতার নজির গড়ে তোলা ১০ জন পুলিশকর্মীর হাতে এ দিন ‘জীবন রক্ষা পদক’ তুলে দেন তিনি। একই সঙ্গে বিপর্যয় মোকাবিলায় ‘অর্জুন’ নামের নতুন বিশেষ বাহিনী গঠন, পুলিশে ৪৩ হাজার নিয়োগ এবং জরুরি পরিষেবায় ‘১১২’ নম্বরকে গতিশীল করার রূপরেখা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অতীতে পোস্তা, মাঝেরহাট কিংবা গার্ডেনরিচের মতো বিপর্যয় মোকাবিলায় উদ্ধারকাজে নানা খামতি দেখা গিয়েছিল। তবে সম্প্রতি তারাতলার দুর্ঘটনায় কলকাতা পুলিশ, দমকল ও পুরসভার দ্রুত পদক্ষেপের ফলে বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। সেই তৎপরতাকে স্বীকৃতি দিতেই স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে এই বিশেষ পদকের সূচনা করা হল। বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে সিভিল ডিফেন্সের অধীনে ‘অর্জুন’ নামে ২০০ জনের একটি দক্ষ ব্রিগেড তৈরি হচ্ছে, যেখানে প্রাক্তন সেনাকর্মী এবং পরবর্তী ক্ষেত্রে ‘অগ্নিবীর’দের সামিল করা হবে বলে তিনি জানান।
রাজ্যে জরুরি পুলিশি সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় করার ওপর জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে যেখানে ফোন করার ছ’মিনিটের মধ্যে পুলিশ পৌঁছয়, সেখানে এ রাজ্যে এখনও অনেকটা সময় লাগে। সেই দূরত্ব কমাতে প্রতিটি থানায় আপৎকালীন ‘১১২’ পরিষেবার জন্য ডেডিকেটেড গাড়ি বরাদ্দ করা হচ্ছে এবং এ বারের বাজেটে এর জন্য ১০০ কোটি টাকা ধার্য করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডকে অবিলম্বে শূন্য থাকা ৪৩ হাজার পদে নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া শুরু করার স্পষ্ট নির্দেশ দেন তিনি। সাইবার অপরাধ দমন এবং দুর্নীতি দমন শাখাকে (এসসিবি) শক্তিশালী করতে আসানসোল ও শিলিগুড়িতে নতুন শাখা খোলার কথাও জানান তিনি।
















