কোথায় প্রশাসনের নজরদারি? কোচবিহারের শীতলকুচির ঘটনায় ফের উঠল এই প্রশ্ন। রবিবার ভোররাতে ইটবোঝাই লরি উঠতেই ভেঙে পড়ল দেওশাল ব্রিজের একাংশ। বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে স্থানীয় বাসিন্দাদের। শব্দ শুনে ছুটে এসে তাঁরা দেখেন, সেতুর একাংশ ভেঙে পড়েছে এবং সেখানে আটকে রয়েছে ইটবোঝাই লরি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোররাতে ইটবোঝাই একটি লরি দেওশাল ব্রিজের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই সেতুর একাংশ ভেঙে পড়ে। ভারী লরির চাপে দুর্বল সেতুটি আর ভার সহ্য করতে পারেনি বলেই প্রাথমিকভাবে মনে করছেন স্থানীয়রা। ঘটনার পর লরিচালক গাড়িটি ঘটনাস্থলে ফেলে সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শীতলকুচি থানার পুলিশ। পাশাপাশি প্রশাসনিক আধিকারিক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ঘটনাস্থলে যান। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি কীভাবে ওই ভারী লরি সেতুর উপর উঠল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দেওশাল ব্রিজটি বহুদিন ধরেই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। সেতুটিকে আগেই বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল বলে দাবি তাঁদের। ভারী যানবাহন যাতে সেতুর উপর দিয়ে চলাচল করতে না পারে, তার জন্য সেতুর দু’পাশে লোহার প্রতিবন্ধকও বসানো হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিবন্ধক থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ইটবোঝাই লরিটি সেতুর উপর উঠল, তা নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি সেতুটির উপর ভারী যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে, তাহলে লরিটি কীভাবে সেখানে পৌঁছল, তা তদন্ত করে দেখা দরকার। পাশাপাশি সেতুর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। বহু বছর আগে নির্মিত এই সেতুটি ছোট গদাইখোরা-সহ আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রতিদিন এই সেতুর উপর দিয়ে যাতায়াত করেন সাধারণ মানুষ, পড়ুয়া, কর্মজীবী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। ফলে সেতুর একাংশ ভেঙে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত সমস্যার মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
















