রাজ্য সরকারি কর্মীদের বদলিজনিত বিষয়ে বড় বদল আসছে। আর্থিক চাপ কমাতে পুরনো ট্রান্সফার গ্রান্ট ও প্যাকিং অ্যালাউন্স ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন ‘কম্পোজিট ট্রান্সফার অ্যান্ড প্যাকিং গ্রান্ট’ চালু করল রাজ্য সরকার।
নবান্ন সূত্রের খবর, ১৯৯৯ সাল থেকে চালু থাকা পুরনো ট্রান্সফার গ্রান্ট ও প্যাকিং অ্যালাউন্স ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও বাস্তবসম্মত করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্য মন্ত্রিসভাও এই প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়। নতুন নিয়ম কার্যকর হবে ২০২৬ সালের ১ জুন বা তার পরে হওয়া বদলির ক্ষেত্রে। পাশাপাশি, ২০২৬ সালের ৩১ মে বা তার পরে অবসর নেওয়া সরকারি কর্মীরাও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে এই সুবিধা পাবেন।
নয়া এই ব্যবস্থার ফলে কর্মী পরিবারকে স্থানান্তর না করলেও, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সামগ্রী নিয়ে নতুন কর্মস্থলে গেলে এই অনুদান পাওয়া যাবে। ব্যক্তিগত মালপত্রের পরিমাণ বা পরিবহণ খরচের বিলও জমা দিতে হবে না। ফলে দীর্ঘদিনের জটিল কাগজপত্রের প্রক্রিয়া থেকে কর্মীরা মুক্তি পাবেন বলে প্রশাসনিক মহলের মত।
অর্থ দফতরের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি বলা হয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় বদলির সময় কর্মীরা সর্বাধিক ৫০ হাজার টাকা অথবা মূল বেতনের ৮০ শতাংশ—যেটি কম হবে—এককালীন অনুদান হিসেবে পাবেন। এর জন্য কোনও রসিদ জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৩০ কিলোমিটার বা তার বেশি দূরত্বে বদলি হয়ে বাসস্থান পরিবর্তন করলে কর্মীরা সম্পূর্ণ হারে এই অনুদান পাবেন। তবে ৩০ কিলোমিটারের কম দূরত্বে বদলি বা একই কর্মস্থলের মধ্যে বদলি হলেও যদি বাসস্থান পরিবর্তন করতে হয়, সে ক্ষেত্রে অনুদানের এক-তৃতীয়াংশ দেওয়া হবে।
শুধু কর্মীরাই নন, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীরাও এই সুবিধার আওতায় আসছেন। শেষ কর্মস্থল থেকে ৩০ কিলোমিটার বা তার বেশি দূরে স্থায়ীভাবে বসবাসে গেলে তাঁরা সম্পূর্ণ অনুদান পাবেন। আর ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে অন্যত্র বসবাসে গেলে, বাসস্থান পরিবর্তনের শর্তে এক-তৃতীয়াংশ অনুদান মিলবে।
এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, রাজ্য সরকারি কর্মীদের কল্যাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁদের বদলির সময় আর্থিক চাপ কমাতে এবং প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে এই নতুন কম্পোজিট ট্রান্সফার অ্যান্ড প্যাকিং গ্রান্ট চালু করা হয়েছে। তাঁর দাবি, নতুন ব্যবস্থা সরকারি কর্মীদের জন্য আরও স্বচ্ছ, সহজ এবং কর্মীবান্ধব হবে।
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বদলিজনিত ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে রসিদ, পরিবহণ খরচ এবং বিভিন্ন নথি জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। নতুন নিয়মে সেই জটিলতা অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদেরও এই সুবিধার আওতায় আনা রাজ্যের কর্মীকল্যাণ নীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন বলেই মনে করা হচ্ছে।
















