নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে(Narendrapur Ramakrisna Misson) ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভ সামলাতে ডাকা হল পুলিশ। কিন্তু ছাত্র বিক্ষোভ ঠেকানো গেল না। মিশনের অ্যাসেম্বলিতে পুলিশ আধিকারিক এসে মাইক হাতে কিছু বলতে গেলেই হলের মধ্যে ছাত্র এবং অভিভাবকরা সেখানে বাধা দেয়। পুলিশ আধিকারিকের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয় যে, আপনার ছেলে মারা গিয়েছে? যাদের জন্যে আজ ছেলেটি মারা গেল তাদের কি গ্রেফতার করা হয়েছে? কোনও পুলিশ চলবে না বলে স্লোগানও ওঠে। 

পুলিশকে কেউ কথা বলতে না দেওয়ায় পুলিশ আধিকারিক অ্যাসেম্বলির মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বাধ্য হন। পুলিশের সামনই আরও অশান্তির সৃষ্টি হয় সেখানে। দ্বাদশ শ্রেণির দীপ্তাংশু মাহাতোর মৃত্যুর ঘটনায় ছাত্র বিক্ষোভ অব্যাহত নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে। 

৩০ জুন নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের গাফিলতিতে দীপ্তাংশুর মৃত্যু ঘটনা ব্যাপকভাবে নাড়া দিয়েছে রাজ্যবাসীকে। গরম চা খাওয়ার পর তার খাদ্যনালি ও অভ্যন্তরীণ অংশ মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়। সেইভাবে টানা চার ঘণ্টা বিনা চিকিৎসায় ছটফট করতে থাকে দীপ্তাংশু। চিকিৎসক তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বললেও মিশন কর্তৃপক্ষ গা ঢিলেমি দেয়। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা বিনা চিকিৎসায় তাকে ফেলে রাখা হয়।

অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে মিশন কর্তৃপক্ষ দীপ্তাংশুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ন্যূনতম তাগিদটুকুও দেখায়নি বলে অভিযোগ। পরিবর্তে তার বাবাকে ফোন করে বলা হয়, ছেলে অসুস্থ, আপনারা এসে হাসপাতালে নিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত অচৈতন্য অবস্থায় তাকে বাইপাসের ধারের এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ওই কিশোর।