নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে নিখোঁজ পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের উদ্ধারে তৎপরতা বৃদ্ধি রাজ্য সরকারের। নেপালে গিয়ে নিখোঁজ বাংলার ৩৯ জন। তাঁদের মধ্যে দু'জনের সঙ্গে ইতিমধ্যেই যোগাযোগ করা গিয়েছে। তাঁরা সুস্থ রয়েছেন এবং যত দ্রুত সম্ভব তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে বাকি ৩৭ জনের এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি।

 

ভবানী ভবনে নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে রাজ্য সরকারের তরফে দু’টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। একটি নবান্নে এবং অন্যটি ভবানী ভবনে। কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের যৌথ উদ্যোগে ভবানী ভবনের কন্ট্রোল রুম পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে সিনিয়র আইপিএস আধিকারিকরা দায়িত্বে রয়েছেন।

 

মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুক্রবার রাত ৮টায় নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিপর্যয় মোকাবিলা ও সেচ দফতরের প্রধান সচিব, ডিজিপি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ একাধিক শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিক। অধিকাংশ পরিবারই বৈঠকে যোগ দেন এবং প্রায় ১৭ জন পরিবারের সদস্য বিভিন্ন প্রশ্ন ও পরামর্শ তুলে ধরেন। সেগুলির উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নিখোঁজদের মধ্যে পোদ্দার পরিবারের দুই সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। তাঁদের দ্রুত ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে ভারতীয় হাই কমিশনের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, একটি ট্যুর সংস্থার ৩২ জন সদস্য এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

 

এদিকে, তিব্বতের দিকে কিছু যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গিয়েছে। সেই বিষয়ে নির্দিষ্ট তালিকা সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

 

তিনি জানান, কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের অনুমতি মিললেই রাজ্য সরকার একটি প্রতিনিধি দল কাঠমাণ্ডু পাঠাবে। সেই দলে থাকবেন একজন মন্ত্রী, একজন বিধায়ক, আইজি পদমর্যাদার এক পুলিশ আধিকারিক এবং যুগ্ম সচিব বা সচিব পদমর্যাদার এক সিনিয়র আইএএস আধিকারিক। ইতিমধ্যেই মুখ্যসচিবকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দিল্লিতে রাজ্যের আবাসিক কমিশনারের মাধ্যমেও বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

 

মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, নিখোঁজদের পরিবারের এই সংকটের সময়ে রাজ্য সরকার তাঁদের পাশে রয়েছে। সরকারের ক্ষমতার মধ্যে যা যা সম্ভব, সব ধরনের সহায়তাই করা হবে। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।