জ্যোতি বসুর স্টাইলে বিরোধীদের নস্যাৎ করে দিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। যত দিন যাচ্ছে, ততই শুভেন্দু অধিকারী কাঁথির তকমা ঝেড়ে ফেলে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর জামাটা সফলভাবে পরতে সক্ষম হচ্ছেন। 

 

হঠাৎ কেন জ্যোতিবাবু প্রসঙ্গ?  জ্যোতিবাবু অর্ধেক কথা বলতেন, অর্ধেক অনুচ্চারিত থেকে যেত। কিন্তু তার মাঝে আসল কথাটা এমনভাবে বলতেন যে সে নিয়ে দ্বিতীয় প্রশ্ন আর উঠত না। কিংবা বলার সুযোগ থাকত না। এই জায়গায় শুভেন্দু কিন্তু প্রাক্তনের থেকে আলাদা। তিনি স্পষ্ট কথা বলেন। কোনও অনুচ্চারিত কথা তাঁর মন্তব্যে থাকে না। 

 

কিন্তু কোনও অপ্রিয় প্রশ্ন উঠে এলে তাকে কীভাবে ট্যাকল করতে হয়, কিংবা স্টেপ আউট করে কভার ড্রাইভ মারতে হয়, তা সোওয়া তিন মাসের মুখ্যমন্ত্রী রপ্ত করেছেন একেবারে জ্যোতিবাবুর ভঙ্গিতে। এত দ্রুত যে তিনি নিজেকে আমূল বদলে ফেলবেন, ঘুণাক্ষরে তাঁর বিরোধীরাও তা ভাবতে পারেননি। 

 

শনিবার ভবানীপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন শুভেন্দু। জানতেন অপ্রিয় প্রশ্ন তাঁকে শুনতেই হবে। কী সেই প্রশ্ন? অন্নপূর্ণার বিক্ষোভ এবং অপ্রাপ্তি। বহু অভিযোগ আছে। রেল অবরোধ হয়েছে। জেলায় জেলায় বিক্ষোভ চলছে। স্বভাবতই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন ছিল, দিকে দিকে তো বিক্ষোভ হচ্ছে! শুভেন্দুর তাৎক্ষণিক জবাব, ওসব তো ফেসবুকে আপনারা ছড়াচ্ছেন। যারা পাচ্ছেন না তারা ফের আবেদন করুন। যোগ্য হলে পাবেন। এরপরই পরিসংখ্যান তুলে বলেন, ১ কোটি ৪৫ লক্ষ পেয়েছেন। কোথা থেকে পেলেন? বাকিরাও পাবেন যোগ্য হলে। পরিসংখ্যান দিতেই পাল্টা প্রশ্ন শেষ। কিন্তু শুভেন্দু জ্যোতিবাবুর ভঙ্গিতে অপ্রিয় সত্য কথাটা এর ফাঁকেই বলে দিলেন অম্লান বদনে। রাস্তায় নেমে সরকারের সিদ্ধান্ত যে বদল করা যাবে না, তা পরিস্কার করে দিলেন। বললেন, রাস্তায় বসে মাথা ঠুকলেই মাথা নোয়াব না। যদি যোগ্য হন এবং আরও মহিলাদের দিতে হয়, তাহলে দেবে রাজ্য। অর্থমন্ত্রী এখানে নেই। তাঁর সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই বলছি। অর্থাৎ সরকার নিয়মতান্ত্রিক ভাবে চলে। যৌথ সিদ্ধান্ত মেনে চলে। আবার সরকারের উপর তাঁর সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব রয়েছে তা প্রকাশ্যে বোঝাতে নিজেই অতিরিক্ত ২০ লক্ষের দায়িত্ব নিলেন। 

 

কিন্তু এটা অ্যাডজাস্ট করা হলেও তা বুঝতে দিতে চান না শুভেন্দু। তাই মোক্ষম দাওয়াইটা বসুর স্টাইলে শেষে দিলেন। বললেন, এ সরকার মাথা নোয়াবার নয়। ক্লিয়ার ম্যানডেট নিয়ে এসেছি। ২০৭টা আসনে জিতেছি। হিউজ মার্জিন। যদি কিছু ভাবতে হয়, ৫ বছর পরে গিয়ে ভাবব। বলেই নতুন প্রশ্নের জন্য অপেক্ষা না করে অ্যাবাউট টার্ন। অর্থাৎ বুঝিয়ে দিলেন, ২০৭ আসনে জেতা সরকার ওই ছুটকো ছাটকা বিক্ষোভে মোটেই বিচলিত নয়। বরং আরও স্পষ্ট করে বোঝালেন, বহুমত আছে বলেই সরকারে। ওদিকে তাকাবার সময় নেই। জ্যোতিবাবু যেমন 'ও রকম তো কতই হয়' বলে হাঁটা দিয়েছিলেন।