ভরদুপুরে চারপাশ ঘিরে ফেলেছে কমান্ডো বাহিনী। অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ন্যাশানাল সিকিউরিটি গার্ড বা এনএসজি-র জওয়ানরা নিমিষেই একটি হোটেল ঘিরে ফেলে ভিতরে ঢুকে পড়লেন। একেবারে সিনেমার দৃশ্যের মতো টানটান উত্তেজনা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সন্দেশখালি থানার পুলিশও। ভরদুপুরে এমন নাটকীয় দৃশ্য দেখে হকচকিয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকায় নিমেষে রটে যায়, হোটেলে নাকি লুকিয়ে রয়েছে জঙ্গি। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই স্পষ্ট হয়, আসল কোনও অভিযান নয়, এটি ছিল এনএসজি-র পূর্বপরিকল্পিত একটি বিশেষ মহড়া বা ‘মকড্রিল’।
পরিকল্পিত মহড়া অনুযায়ী, সন্দেশখালি থানার কাছে বার্তা পাঠানো হয় যে ধামাখালির একটি গেস্ট হাউসে কয়েকজন পর্যটককে পণবন্দি করেছে জঙ্গিরা। এর পরই খবর দেওয়া হয় এনএসজি-কে। কিছুক্ষণের মধ্যেই এনএসজি কমান্ডোরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান এবং গোটা এলাকা ঘিরে ফেলেন। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও কৌশল কাজে লাগিয়ে তাঁরা হোটেলের ভিতরে প্রবেশ করেন এবং পণবন্দি পর্যটকদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে জঙ্গিদের কাবু করেন। কমান্ডোদের এই নিখুঁত অপারেশন দেখতে হোটেলের বাইরে ভিড় জমান স্থানীয় বহু মানুষ।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জরুরি পরিস্থিতিতে বাহিনীর প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতেই এই মহড়া চালানো হয়েছে। এর আগে কালীঘাট মন্দির চত্বরেও কলকাতা পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে তিন দিন ধরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা ও রেইকি চালিয়েছিলেন এনএসজি আধিকারিকরা। সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ধামাখালিতে কমান্ডো বাহিনীর এমন তৎপরতা ও মহড়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
















