শিয়ালদহ ফ্লাইওভারের নীচে হকার উচ্ছেদের নোটিশে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ৯ জুলাই পর্যন্ত এই নোটিশের ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে আদালত। নোটিশের উৎস এবং বৈধতা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি শিয়ালদহ ফ্লাইওভারের নীচের হকারদের এলাকা খালি করার নোটিশ দেওয়া হয়। এই নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন হকারদের একাংশ। বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। আদালতে মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সওয়াল করেন, যে নোটিশটি জারি করা হয়েছে, সেটি আদেও কলকাতা পুরনিগমের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। নোটিশের সত্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তিনি। এই চরম অস্পষ্টতার কারণে হকারদের উচ্ছেদ প্রক্রিয়া থমকে দেওয়ার আর্জি জানান তিনি।

মামলাকারী পক্ষের এই বক্তব্যের পর ডিভিশন বেঞ্চ কলকাতা পুরনিগমকে তাদের অবস্থান ও মতামত স্পষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছে। পুরনিগমের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য শোনার পরেই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, কলকাতা পুরনিগমের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতে জানান, সম্ভবত পুর প্রশাসক এই নোটিশ জারি করেছেন। এর পাশাপাশি এই মামলার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এই ধরনের আইনি পদক্ষেপ আসলে বেআইনি দখলদারিকে মদত দেওয়ার চেষ্টা মাত্র। তবে একই সঙ্গে তিনি আদালতকে মৌখিকভাবে আশ্বাস দিয়ে জানান, আদালতের পরবর্তী নির্দেশ বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত পুরসভার তরফে হকারদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হবে না। আপাতত হাইকোর্টের এই নির্দেশে আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত স্বস্তিতে শিয়ালদহ ফ্লাইওভারের নীচের হকাররা। আগামী সপ্তাহে পুরসভা আদালতে কী হলফনামা জমা দেয়, এখন সেটাই দেখার।