পুজোর মুখে চাকরি হারানোর অভিযোগ! ফের নিয়োগ (Recuritment)  এবং চাকরির স্থায়িত্বের দাবিতে রাজপথে নামলেন চুক্তিভিত্তিক ICT শিক্ষকরা (Teacher Protest)। করুণাময়ী থেকে বিকাশ ভবনের (Bikash Bhavan) উদ্দেশে মিছিল করতে গেলে মেট্রো স্টেশনের আগেই তাঁদের আটকে দেয় পুলিশ। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের বাধার প্রতিবাদে রাস্তায় বসে এবং শুয়ে বিক্ষোভ দেখান আন্দোলনকারীরা। শুরু হয় পুলিশ (Police) ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি।

আরও পড়ুন: বিধায়কদের ‘লাইফস্টাইল’-এও নজর দিল্লির! বাংলায় এসে 'খবরদারি' নীতিনের

আন্দোলনকারীদের সংগঠন ICT ঐক্য মঞ্চের অভিযোগ, ষষ্ঠ ও সপ্তম ফেজের প্রায় ৩৭১৯ জন শিক্ষক চাকরি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। তাঁদের দাবি, আগের ফেজগুলির মতো তাঁদেরও সরাসরি সরকারি চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে নিয়োগ করতে হবে।

এক আন্দোলনকারী শিক্ষকের (Teacher) কথায়, “আগের এক থেকে পঞ্চম ফেজে শিক্ষকদের ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হয়। সরকারি চুক্তির মাধ্যমে তাঁদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে। অথচ আমরা একই কাজ করেও ৬৮০০ থেকে ৭০০০ টাকা পাই। এই টাকায় সংসার চালানো কঠিন। প্রতিদিনের যাতায়াতেই ১৫০ থেকে ২০০ টাকা খরচ হয়ে যায়। তাই আমাদের দাবি, আগের ফেজগুলির মতো আমাদেরও সরকারি চুক্তিভিত্তিক করা হোক।” শুধু তাই নয়, আন্দোলনকারীদের দাবি, এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগ হলেও তাঁরা পরীক্ষা ও নির্দিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই কাজে যোগ দিয়েছেন। তাই তাঁদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সরকারি চুক্তি চালু করার দাবি উঠেছে। ৩৭১৯টি পরিবারের সঙ্গে এই চাকরি জড়িয়ে রয়েছে। অথচ পুজোর আগে হাতে ছাঁটাইয়ের চিঠি এসেছে।

এরপরেই চাকরি হারানোর আশঙ্কা নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করে এক শিক্ষকের বক্তব্য, “আমরা বাঁচার দাবিতেই এসেছি। নতুন সরকার আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চাকরিটাই চলে গেল। যখন নিয়োগের পদ্ধতি একই ছিল, তখন আমাদের বেতন এত কম হবে কেন?” খেয়াদহ হাইস্কুলের এক শিক্ষক দাবি করেছেন তাঁদের সরকারি চুক্তিতে আনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

তাঁর কথায়, “আমাদের সরকারি চুক্তির আওতায় আনার কথা ছিল। মুখ্যমন্ত্রীও সেই আশ্বাস দিয়েছিলেন।” গত বছর থেকেই তাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে। চাকরি ফেরত, বেতন-বৈষম্যের অবসান এবং স্থায়ীভাবে কাজের নিশ্চয়তার দাবিতেই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ICT ঐক্য মঞ্চের সদস্যরা।