২০২৭ সালের কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা (Kolkata International Book Fair) শুরু ২২ জানুয়ারি, চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সম্প্রতি নবান্নে বইমেলা নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক হয়। এবং সেখানে বইমেলার (Book Fair) খোল নলচে বদলে দিয়ে কার্যত গেরুয়াকরণের সবরকমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বৈঠকে ভারত সেবাশ্রম সংঘ, রামকৃষ্ণ মিশন ও ন্যাশনাল বুক ট্রাস্টে, ইজেডসিসি (EZCC), রামমোহন রায় লাইব্রেরি ট্রাস্ট, পাবলিশার্স ও বুকসেলার্স গিল্ড সহ বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, গিল্ডের বর্তমান সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় (Tridip Chaterjee) ও সভাপতি সুধাংশুশেখর দেকে (Sudhanshushekar Dey) বৈঠকে ডাকাই হয়নি। সেই জায়গায় নতুন সদস্যরা হলেন দেবজ্যোতি দত্ত, অনিল আচার্য, মিলিন দে, রাজকুমার বর্মণ। সিদ্ধান্ত হয়েছে গিল্ড আর একক ভাবে বইমেলা পরিচালনা করবে না। পরামর্শদাতা বোর্ড গঠন হবে এবং এই বোর্ডে ২৪ জন সদস্য থাকবেন। বইমেলা হবে পুরনো জায়গাতেই অর্থাৎ সল্টলেক সেন্ট্রাল পার্কে।
২০২৭ এর বইমেলার (BookFair) লক্ষ্যণীয় বিষয়টি হল পরিচালনাগত পরিবর্তন। ২৪৭টি কলেজের পরিচালন কমিটিতে যেমন বিজেপির সাংসদ-বিধায়কদের রাখা হয়েছে, তেমনি পরামর্শদাতা কমিটিতেও বিজেপিপ্রেমীদের ভিড়। গিল্ডের বইমেলা নিয়ে যে যে অভিযোগগুলি ছিল, ২০২৭-এর বইমেলার কমিটিতে চোখ বোলালে সেই একই অভিযোগ উঠে আসতে বাধ্য। বিস্ময়কর হল বইমেলায় ভারত সেবাশ্রম সংঘ ও রামকৃষ্ণ মিশনের অন্তর্ভুক্তি।
তবে এখনও পর্যন্ত বইমেলার জন্য নতুন কোনও প্রাঙ্গণ খুঁজে পায়নি রাজ্য সরকার। আগের সরকারের নির্দিষ্ট করে যাওয়া সেন্ট্রাল পার্ককেই বেছে নেওয়া হয়েছে। বইপ্রেমীদের অনেকেরই দাবি, যদি এতটাই পরিবর্তনের প্রয়োজন হল তাহলে বইমেলার স্থান পরিবর্তন করা হল না কেন? ফের কেন ময়দানে ফিরে আসবে না বইমেলা? মেলা তার পুরনো ঐতিহ্য ফিরে পাক।
















