গণতন্ত্রের চতুর্থস্তম্ভ সংবাদমাধ্যমের উপর বিজেপি সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে চাইছে বলে যখন অভিযোগ জোরালো হচ্ছে ঠিক তখনই, বা়ংলায় প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকায় 'গেরুয়া গুন্ডামি' শব্দবন্ধ ব্যবহারের জেরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া FIR-এর প্রেক্ষিতে কড়া পদক্ষেপ না করার আশ্বাস দিল রাজ্য। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে রাজ্যের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার এই আশ্বাস দেন। তবে সেক্ষেত্রে তদন্তের সহযোগিতা করা বাধ্যতামূলক বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। 

সিনিয়র আইনজীবী এস এন মুখোপাধ্যায়, তাঁর সহযোগী অরুণাভ দেব ও আশিকা ডাগার সহায়তায়, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর-এর বিষয়টি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি জানান, সারা দেশের সন্ন্যাসীদের অপমান করা হয়েছে এই অভিযোগে উসকানির মামলা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিক্ষোভকারীরা তাঁর অফিস গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে দিয়েছে। শুনানিতে আদালত 'গেরুয়া ভাঙচুর' শব্দটির সঙ্গে তিনি পরিচিত কিনা জানতে চাইলে আইনজীবী বলেন, "আমি পরিচিত, প্রকৃতপক্ষে আমার বাবা গেরুয়া ব্রিগেডের অংশ ছিলেন।" এরপর আদালত রাজ্য সরকারের কাছে আশ্বাস চেয়েছে যে, নোটিশে সহযোগিতা করলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) ক্যাম্পাসে এবিভিপি- এসএফআই সংঘর্ষের (ABVP-SFI Conflict) জেরে তৈরি হওয়া উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর বাংলার জনপ্রিয় সংবাদপত্রের প্রথম পাতার শিরোনামে 'গেরুয়া তাণ্ডব' কথাটির উল্লেখ করা হয়। এরপরই তীব্র বিরোধিতা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ক্ষমা চাইতে হবে ওই সংবাদপত্রকে। যদিও সংশ্লিষ্ট মিডিয়ার সংস্থা সে পথে হাঁটেনি। এরপর দেখা যায় তাদের অফিসের একটা অংশে গেরুয়া রং করে দেওয়ার চেষ্টা হয়। এই ঘটনার জেরে যখন নিন্দা সমালোচনার ঝড় সর্বত্র তখনই বিষয়টি নিয়ে মামলা গড়ায় হাইকোর্টে। এরপরই আদালতের প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যের আইনজীবী জানিয়েছেন তদন্তে ঠিকঠাক মতো সহযোগিতা করলে অভিযুক্ত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। পরবর্তীতে ঘটনার জল কোন দিকে গড়ায় সেটাই দেখার।