বাংলায় পুলিশকে অপব্যবহার করে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। বিজেপি সরকারের (BJP Government) বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ তুলে দেশের সাংবিধানিক প্রধান রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান রাজ্যপালের সাক্ষাত চেয়ে চিঠি পাঠাল তৃণমূল (TMC)। বৃহস্পতিবার ভোরে ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে হামলা করা হয়। ভাঙচুর চালিয়ে জিনিস লুঠ করা হয় বলে অভিযোগ। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Avishek Benerjee) পোস্ট করা ভিডিওকে হাতিয়ার করে দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu) ও আর এন রবিকে (R N Ravi) নালিশ জানিয়েছে তৃণমূল। 

এদিন ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ ক্যামাক স্ট্রিট তৃণমূলের কার্যালয়ে ‘বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা’ হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছে অভিষেকের। সেই হামলার সিসি ক্যামেরা ফুটেজ নিজের স্যোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক প্রশ্ন তোলেন, “রাজ্যে আইনের শাসন রয়েছে কি?” তিনি লেখেন, “ভোর সাড়ে ৪টেয় অস্ত্র হাতে একদল লোক যদি একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে ঢুকে কর্মীদের উপর হামলা চালাতে পারে, ফোন কেড়ে নিতে পারে, অফিস ভাঙচুর করতে পারে, আর সেই সময় পুলিশ যদি নির্বিকার থাকে, তা হলে পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন বলে আর কী অবশিষ্ট আছে?”

অভিষেকের কথা রেশ ধরেই চিঠি লিখেছে মমতা-পন্থী তৃণমূল। রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালের কাছে সাক্ষাতের সময় চাওয়া হয়েছে। চিঠিতে লেখা হয়েছে, ”বাংলায় পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার করে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। আজ সকালে যা ঘটেছে, তা ছিল প্রকাশ্য আইন-শৃঙ্খলার চরম লঙ্ঘন। ভোর ৪টা ৩০ মিনিটের ভিডিও ফুটেজটি একবার দেখুন।  গত চার মাস ধরে পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। রাজ্যজুড়ে পুলিশ তৃণমূলকর্মীদের নিশানা করছে এবং দলীয় কার্যালয়গুলিতে ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। পুলিশ কোনও নিয়মই মানছে না এবং বিজেপির ক্যাডারদের মতোই প্রকাশ্যে আচরণ করছে। এখানে চরম নৈরাজ্য চলছে।” বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে বলে এমন অভিযোগ করে দলের তরফে রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যপালকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।