তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চার্টার্ড বিমান বা বিশেষ বিমান ব্যবহার প্রসঙ্গে এবার আসরে নামলেন কুণাল ঘোষ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের সূত্র ধরে এই বিমান নিয়ে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক। সেখানে তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই বিমান সম্পর্কে আগে তাঁর স্পষ্ট ধারণা ছিল না। তবে খোঁজ নিয়ে তিনি যা জানতে পেরেছেন, তা তিন দফায় নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তুলে ধরেছেন তিনি।
কুণাল ঘোষের দেওয়া প্রথম তথ্য অনুযায়ী, কোনো স্থায়ী বিমান কেনা বা মালিকানা নয়, বরং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতের সুবিধার্থে একটি নির্দিষ্ট বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। যাতে নির্বাচনের মরসুমে বা অন্যান্য রাজনৈতিক তাগিদে প্রয়োজনমতো দ্রুত বিমান পাওয়া যায়, তার জন্যই এই আকাশযাত্রার চুক্তি করা হয়েছে।
দ্বিতীয় তথ্যে তিনি দাবি করেছেন, তৃণমূল যখন এই বিমান ব্যবহার করে না, তখন ওই সংস্থাটি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রথম সারির নেতা, বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং নামী শিল্পপতিদেরও সেটি ভাড়া দেয়। ওই বিমানটি ব্যবহারকারীদের তালিকা অত্যন্ত দীর্ঘ এবং সেখানে দেশের একাধিক শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বের নাম রয়েছে। এমনকি, সম্প্রতি এ রাজ্যে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভিনরাজ্যের এক বিশেষ অতিথিও এই সংস্থার বিমানে চেপেই এসেছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
তৃতীয় এবং সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন কুণাল। তিনি জানিয়েছেন, বিমান ব্যবহারের জন্য নিয়মমাফিক ওই সংস্থাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পেমেন্ট করে তৃণমূল কংগ্রেস। ওই বেসরকারি সংস্থায় তৃণমূলের কোনো পদাধিকারী বা নেতার কোনো অংশীদারি বা শেয়ার নেই। একই সঙ্গে, ওই সংস্থা থেকে কোনো ধরণের আর্থিক সুবিধা বা পেমেন্ট তৃণমূলের কোনো পদাধিকারীর কাছে যায়নি বলেও তাঁর প্রাথমিক খতিয়ানে উঠে এসেছে। বিমান বিতর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধীরা যখন সুর চড়াচ্ছে, তখন কুণাল ঘোষের এই টুইট শাসকদলকে বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
















