বারুইপুরে নাবালিকার মৃত্যু ও নির্যাতনের ঘটনায় প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে চলছে বলে দাবি করলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। মঙ্গলবার নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর তিনি স্পষ্ট করে দেন, অপরাধীদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না। একই সঙ্গে এই ধরনের ঘটনার নেপথ্যে থাকা মাদকাসক্তির সমস্যা দূর করতে রাজ্যজুড়ে সমস্ত বেআইনি মদের ঠেক ভেঙে দেওয়ার কড়া ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সকালে বারুইপুরে নিহত কিশোরীর বাড়িতে যান মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার প্রথম দিন থেকেই মুখ্যমন্ত্রী নিজে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। মন্ত্রীর দাবি, মেয়েটির বাবা নিজেই জানিয়েছেন যে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর ওপর সম্পূর্ণ ভরসা রাখছেন। প্রশাসন ও পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিগত সরকারের সঙ্গে বর্তমান প্রশাসনের কাজের ফারাক টেনে অগ্নিমিত্রা বলেন, আগের সরকারও জিরো টলারেন্সের কথা বলত, কিন্তু বাস্তবে তা দেখা যেত না। বর্তমান সরকার কাজে বিশ্বাসী। ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্তসহ প্রায় সমস্ত অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকি এক পলাতক আসামির খোঁজ চলছে। অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তির দাবি তুলে মন্ত্রী বলেন, যেভাবে মেয়েটির ওপর নৃশংস অত্যাচার চালানো হয়েছে, তাতে শুধু যাবজ্জীবন সাজা দিয়ে করদাতাদের টাকায় তাদের সারাজীবন জেলে বসিয়ে খাওয়ানো উচিত কি না, তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। আইন মেনেই যেন চরম শাস্তি হয়, সেই দাবি জানান তিনি।
এই ঘটনার পেছনে মাদক ও মদের আসক্তির বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন। সেই সূত্র ধরেই অগ্নিমিত্রা জানান, বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকান ছাড়া পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে আর কোনও বেআইনি মদের ঠেক বা দোকান রাখা চলবে না। মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে আগেও সরব হয়েছেন এবং দ্রুতই রাজ্যজুড়ে এই সমস্ত বেআইনি ঠেক ভেঙে দেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। মহিলাদের ওপর বা অন্য যে কোনও নৃশংসতার বিরুদ্ধে সরকার যে আপসহীন মনোভাব নিয়ে চলবে, তা তিনি পুনরুল্লেখ করেন।
















