বিজেপি শাসিত কেন্দ্রের অঙ্গুলিহেলনে নির্বাচন কমিশন কি এখন সাহিত্যিকদের ভয় দেখাতে শুরু করেছে? ২০১৯ সালের একটি পুরনো মামলাকে হাতিয়ার করে সাত বছর পর ভোটের আগের দিন কেন গ্রেফতারি পরোয়ানা? শ্রীজাতর প্রশ্ন বাণে বিদ্ধ দিল্লি এবং কমিশন। কবি শ্লেষের সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছেন প্লেটোর সেই আদর্শ রাষ্ট্রের কথা, যেখানে মুক্তমনা কবিদের কোনও স্থান নেই। তাঁর সাফ কথা, “মাথা তুলে কথা বলার অন্যায় করেছি বলেই মাশুল দিতে হচ্ছে।” বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির ওপর এই আক্রমণ আসলে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করার এক ঘৃণ্য চক্রান্ত বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সবচেয়ে রহস্যজনক ও হাস্যকর বিষয় হল নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা। একদিকে পরোয়ানা জারির খবর রটছে, অন্যদিকে তড়িঘড়ি কমিশন তাকে ‘ভুয়ো’ বলে প্রচার করে সাফাই দিচ্ছে। খোদ কবি যেখানে দাবি করছেন খবরটি ১০০ শতাংশ সঠিক, সেখানে কমিশন কেন আগ বাড়িয়ে দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছে? এই দ্বিচারিতাই প্রমাণ করে, পর্দার আড়ালে কুনাট্য চলছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই ঘটনায় উষ্মা প্রকাশ করে বিজেপি ও পুলিশি সক্রিয়তার নেপথ্যে থাকা অদৃশ্য সুতোটির দিকে আঙুল তুলেছেন।
এ থেকে একটা কথাই স্পষ্ট, ক্ষমতার দম্ভে কবিকে খাঁচায় বন্দি করা যেতে পারে, কিন্তু তাঁর ভাবনাকে নয়। কেন্দ্র ও কমিশন জোট বেঁধে ভয়ের যে বাতাবরণ তৈরি করতে চাইছে, বাংলার মানুষ এবং বিদ্বজন সমাজ তার মোক্ষম জবাব দিতে প্রস্তুত। কবির লেখনীকে যারা দেশদ্রোহিতা বলে দাগিয়ে দিতে চায়, তাদের মনে রাখা উচিত, ইতিহাসের পাতায় স্বৈরশাসকের নাম নয়, কবির পঙক্তিই অমর হয়ে থাকে।
আরও পড়ুন- কার ভুলে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত: ২৭ লক্ষের মাত্র ১৩৬ জনকে ভোটাধিকার ট্রাইবুনালের!
_
_
_
_
_
_
















