Site Logo

নির্বাচনের মুখে ‘কবি-কণ্ঠ’ দমনে মরিয়া কমিশন ও দিল্লি! হার্ভার্ড থেকে প্রতিবাদ কবি সুবোধ সরকারের

EBBS Desk·
নির্বাচনের মুখে ‘কবি-কণ্ঠ’ দমনে মরিয়া কমিশন ও দিল্লি! হার্ভার্ড থেকে প্রতিবাদ কবি সুবোধ সরকারের
গণতন্ত্রের উৎসবের নামে রাজ্যে কি তবে জরুরি অবস্থার অঘোষিত মহড়া শুরু হল? প্রথম দফার ভোটগ্রহণের ঠিক আগের দিন কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। সুদূর আমেরিকা থেকে এই নজিরবিহীন ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশিষ্ট কবি সুবোধ সরকার। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্কার সেন্টারে (Allen Ginsberg’s Indian Connection) একটি অনুষ্ঠানে (A Centenary Talk followed by readings of contemporary bengali poetry in original Bangla and English translation) যোগ দিতে গিয়েও কবি সুবোধ সরকারের কণ্ঠে ঝরে পড়ল আগ্নেয়গিরির লাভা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কবির কলম কেড়ে নেওয়া যায় না, কবির মুখ আটকে রাখা যায় না। কারও মুখ রাখার জন্য কবি কবিতা লেখেন না, তিনি লেখেন সমাজের কথা।” কবির কলমকে যারা ভয় পায়, তাদের ভিত যে কতটা নড়বড়ে, সুবোধ সরকারের এই ক্ষোভ যেন সেই সত্যই প্রতিষ্ঠিত করল।

বিজেপি শাসিত কেন্দ্রের অঙ্গুলিহেলনে নির্বাচন কমিশন কি এখন সাহিত্যিকদের ভয় দেখাতে শুরু করেছে? ২০১৯ সালের একটি পুরনো মামলাকে হাতিয়ার করে সাত বছর পর ভোটের আগের দিন কেন গ্রেফতারি পরোয়ানা? শ্রীজাতর প্রশ্ন বাণে বিদ্ধ দিল্লি এবং কমিশন। কবি শ্লেষের সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছেন প্লেটোর সেই আদর্শ রাষ্ট্রের কথা, যেখানে মুক্তমনা কবিদের কোনও স্থান নেই। তাঁর সাফ কথা, “মাথা তুলে কথা বলার অন্যায় করেছি বলেই মাশুল দিতে হচ্ছে।” বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির ওপর এই আক্রমণ আসলে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করার এক ঘৃণ্য চক্রান্ত বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

সবচেয়ে রহস্যজনক ও হাস্যকর বিষয় হল নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা। একদিকে পরোয়ানা জারির খবর রটছে, অন্যদিকে তড়িঘড়ি কমিশন তাকে ‘ভুয়ো’ বলে প্রচার করে সাফাই দিচ্ছে। খোদ কবি যেখানে দাবি করছেন খবরটি ১০০ শতাংশ সঠিক, সেখানে কমিশন কেন আগ বাড়িয়ে দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছে? এই দ্বিচারিতাই প্রমাণ করে, পর্দার আড়ালে কুনাট্য চলছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই ঘটনায় উষ্মা প্রকাশ করে বিজেপি ও পুলিশি সক্রিয়তার নেপথ্যে থাকা অদৃশ্য সুতোটির দিকে আঙুল তুলেছেন।

এ থেকে একটা কথাই স্পষ্ট, ক্ষমতার দম্ভে কবিকে খাঁচায় বন্দি করা যেতে পারে, কিন্তু তাঁর ভাবনাকে নয়। কেন্দ্র ও কমিশন জোট বেঁধে ভয়ের যে বাতাবরণ তৈরি করতে চাইছে, বাংলার মানুষ এবং বিদ্বজন সমাজ তার মোক্ষম জবাব দিতে প্রস্তুত। কবির লেখনীকে যারা দেশদ্রোহিতা বলে দাগিয়ে দিতে চায়, তাদের মনে রাখা উচিত, ইতিহাসের পাতায় স্বৈরশাসকের নাম নয়, কবির পঙক্তিই অমর হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন- কার ভুলে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত: ২৭ লক্ষের মাত্র ১৩৬ জনকে ভোটাধিকার ট্রাইবুনালের!

_

_

Sponsored

Sranchi In Article

_

Sponsored

Merlin In Article

_

Sponsored

Shyam Sundar In Article

_

Sponsored

Camelia In Article

_

Sponsored

Techno India In Article

Sponsored

Probe In Article

Related Articles

More from বিশেষ

View All →