চারদিকে শুধু কাদা, পাথর আর ধ্বংসস্তূপ। প্রকৃতির এক বিধ্বংসী রূপ প্রত্যক্ষ করেছে হিমালয়ের দেশ নেপাল। ধসে পড়া পাহাড় আর উপচে পড়া নদীর কাদায় চাপা পড়েছে একের পর এক প্রাণ। উদ্ধারকারীদের পক্ষে যেখানে খালি চোখে বা সাধারণ যন্ত্র দিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে হাজির হল ভারতের এক চারপেয়ে ‘নায়ক’। নাম তার সাম্বা।
আরও পড়ুন: রাজনৈতিক সৌজন্য না সমীকরণ? দেবের বাড়ির গণেশপুজোয় হাজির সুকান্ত
প্রশিক্ষিত এই স্নিফার ডগের তীক্ষ্ণ ঘ্রাণশক্তির ওপর ভরসা করেই নেপালের সাম্প্রতিকতম ধস ও বন্যা বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত ২০টিরও বেশি মানুষের মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের স্পন্দন বা লাশের গন্ধ চিনে নেওয়ার এক অদ্ভুত ও অলৌকিক ক্ষমতা রয়েছে এই ল্যাব্রাডর জাতের কুকুরটির।
আরও পড়ুন: পুজোতে নেই বাঁধা! হাই কোর্টের রায়ে কাটল বাগবাজারের দুর্গাপুজোর জট
নেপালের রাসুয়া এবং ত্রিশূলি নদীর অববাহিকায় পাহাড়ি ধসের পর পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল রূপ ধারণ করে। বিশাল বিশাল বোল্ডার ও কয়েক ফুট গভীর কাদার নিচে চাপা পড়ে রয়েছে বহু মানুষ। উদ্ধারকারী দল যখন কোনও সূত্র না পেয়ে দিশেহারা, তখন সাম্বাকে নামানো হয় ময়দানে। শুধুমাত্র কাদার নীচে চাপা পড়ে থাকা মৃতদেহের গন্ধ শুঁকে তার অবস্থান শনাক্ত করার জন্যই ভারত থেকে নেপালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মাটির অনেক গভীরে চাপা পড়ে থাকা পচনশীল দেহের গন্ধ পেলেই সে থমকে দাঁড়াচ্ছে। মাটিতে থাবা দিয়ে আঁচড় কেটে বা একটানা ঘেউ ঘেউ করে সংকেত দিচ্ছে উদ্ধারকারীদের। আর সাম্বার নিখুঁত ইঙ্গিতের ওপর ভিত্তি করে সেনা ও উদ্ধারকর্মীরা যখনই সেই নির্দিষ্ট স্থানটি খুঁড়ছেন, সেখান থেকেই উদ্ধার হচ্ছে নিখোঁজ দেহ।
আরও পড়ুন: তিন বছরে তৃতীয়বার ভাঙচুর আম্বেদকরের মূর্তি! যোগীরাজ্যের ঘটনায় শোরগোল
আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসিত ভারতের ‘সাম্বা’ভারতের এই বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরটি নেপালের আর্মড পুলিশ ফোর্সের (APF) কে-নাইন (K-9) স্কোয়াডের অংশ হিসেবে এই আন্তর্জাতিক উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ধুলো-কাদাকে উপেক্ষা করে দিনরাত এক করে কাজ করে চলেছে সে। বিপর্যয়ের এই কঠিন সময়ে যেখানে প্রযুক্তি হার মেনেছে, সেখানে সাম্বার এই অবিশ্বাস্য অবদান নেপাল সরকার ও সাধারণ মানুষের কাছে তাকে এক সত্যিকারের ‘হিরো’ বা নায়কের আসনে বসিয়েছে। স্বজনহারা পরিবারগুলো অন্তত তাদের প্রিয়জনদের শেষকৃত্য করার সুযোগ পাচ্ছেন সাম্বার এই কৃতিত্বের কারণেই। দুই প্রতিবেশী দেশের মানবিক সহযোগিতার এক অনন্য এবং আবেগঘন নজির হয়ে রইল সাম্বা।
















