লিঙ্গ পরিবর্তনের পর আবারও পেশাদার ক্রিকেটে আবারও ফিরছেন অনয়া বাঙ্গার( Anaya Bangar )। একটা সময় চুটিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতেন সঞ্জয় বাঙ্গারের সন্তান। মুশির খান, যশস্বী জয়সওয়ালদের খেলেছেন, কিন্তু লিঙ্গ পরিবর্তনের পর ক্রিকেট থেকে দূরে সরিয়ে যান অনয়া। কারণ ভারতে লিঙ্গ পরিবর্তনের পর খেলার অনুমতি মেলে না। তবে দেশে নয় বিদেশের লিগে খেলতে পারেন অনয়া।

মুম্বইয়ের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় খেলার পর লিঙ্গ পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেন অনয়া।   লিঙ্গ পরিবর্তনকারী খেলোয়াড়দের মহিলাদের ক্রিকেটে খেলার অনুমতি দেয় না আইসিসি। বিসিসিআইও এই নিয়ম মেনে চলে।  অস্ট্রেলিয়ায় সেই সমস্যা নেই। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে লিঙ্গ পরিবর্তনকারী এবং জেন্ডার-ডাইভার্স  ক্রিকেটারদের খেলার অনুমতি আছে। 

 অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে লিঙ্গ পরিবর্তনকারী খেলোয়াড়দের খেলতে বাধা নেই।  মহিলাদের বিগ ব্যাশ লিগ অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে সর্বোচ্চ স্তরের প্রতিযোগিতায় নামার জন্য বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে অনয়াকে।অস্ট্রেলিয়ায় মহিলা ক্রিকেট খেলার ক্ষেত্রে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নির্দিষ্ট যোগ্যতার নিয়ম রয়েছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিয়ম অনুযায়ী লিঙ্গ পরিবর্তনকারী ক্রিকেটারদের টেস্টোস্টেরন লেভেল 10 nmol/L হতে হয়। অনয়ার দাবি, সেই কঠিন পরীক্ষা তিনি পেরিয়ে গিয়েছেন।  তবে অনয়ার দাবি, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাঁকে বিগ ব্যাশ লিগে খেলার অনুমতি দিয়েছে।

সেই নিয়ম অনুযায়ী অনায়াকে নির্দিষ্ট সময় ধরে তাঁর টেস্টোস্টেরন মাত্রা নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকার প্রমাণ দিতে হবে। অনায়ার ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে ২০২৭ সালের মার্চ থেকে অস্ট্রেলিয়ার কোনও রাজ্য দলের হয়ে ক্রিকেট খেলার সুযোগ তৈরি হবে।..

২০২৭ সালের মার্চ মাস থেকে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটের যে কোনও রাজ্যের দল বা বিগ ব্যাশ লিগে তিনি খেলতে পারবেন। সেই অনুমতি মিলেছে। এখন তিনি অনুশীলনে নামছেন। নিজেকে ফিট করে তুলতে চান। 
অনয়া ২০২১ সালে লিঙ্গ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। সেই মতো ‘হরমোনাল রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি’ও হয় তাঁর। দীর্ঘ ১০ মাসের প্রক্রিয়া শেষে আরিয়ান থেকে লিঙ্গ পরিবর্তব করে অনয়া হয়েছেন  কিন্তু সেই প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকে যাওয়ার সময় অনেক লড়াই করতে হয়েছিল। এমনকি বাবা সঞ্জয় বাঙ্গারের সমর্থনও ছিল না।  কিন্ত সব প্রতিবদ্ধকতাকে কাটিয়ে আবারও ক্রিকেটের ২২ গজে ফিরছেন অনয়া।

 

 এই প্রসঙ্গে অনয়া জানিয়েছেন, “আমাকে আবার ক্রিকেট খেলতে অনুমতি দেওয়ার জন্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার কাছে এই লড়াই অনেক কঠিন। একটা সময় মনে হয়েছিল, আর ক্রিকেট কোনওদিন খেলতে পারব না। তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া সেই সুযোগ করে দেওয়ায় তাদের ধন্যবাদ।”