এভাবেও ফিরে আসা যায়! বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা এভাবেই ফিরে আসে। বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে রূপকথার প্রত্যাবর্তন আর্জেন্টিনার(Argentia)। ০-২ গোলে পিছিয়ে থেকেও মিশরের বিরুদ্ধে ৩-২ গোলে দুরন্ত জয়। কাপযুদ্ধে শেষ আটে মেসি ব্রিগেড।


ফুটবল ম্যাচ নয়, ১০৭ মিনিটের একটা টানটান ওয়েব সিরিজের থ্রিলার। চিত্রনাট্যে কী নেই, সাফল্য-উল্লাস থেকে মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তন, ১২ মিনিটে তিন গোল  থেকে আগুনে বিতর্ক, শেষে পরাজিতদের সঙ্গে বিজয়ীদেরও চোখে জল। এক কথায় এটাই আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের নির্যাস। ফুটবল যতটা সুন্দর ততটাই যে নিষ্ঠুর, তা এই ম্যাচের প্রতিটা পরতে পরতে প্রমাণিত হল।


প্রতিপক্ষ মিশর বেশ শক্তিশালী দল, আর্জেন্টিনার  লড়াই ছিল কঠিন। তবে মেসিরা বোঝালেন কেন তাঁরা বিশ্বসেরা। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ নাটকীয়-রোমাঞ্চ ছিল ভরপুর। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ জিতে কান্নাভেজা চোখে গ্যালারির গগণভেদী আওয়াজের সামনে মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে মেসি বুঝিয়ে দিলেন বয়স একটা সংখ্যা মাত্র! ৩৯-এ এসেও তিনি ১৯-র তরুণ। নেইমার-রোনাল্ডোদের সঙ্গে এক বন্ধনীতে তাঁকে রাখা যাবে না।


এবার আসা যাক ম্যাচের কথায়, আটলান্টা স্টেডিয়ামে মিশরের পক্ষে গোলদু'টি করেন ইয়াসের ইব্রাহিম (১৫') ও মোস্তাফা জিকো (৬৭')। আর্জেন্টিনার পক্ষে গোলগুলি করেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো (৭৯'), লিওনেল মেসি (৮৩') ও এনজো ফার্নান্দেজ (৯০'+২')।


খেলা শুরুর মিনিট পরেই পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু বল গোলে পাঠাতে ফের ব্যর্থ হলেন মেসি ,  গোলরক্ষক মুস্তাফা শোবের রুখে দিলেন। কিন্তু খুব খারাপ শট ছিল।  চলতি বিশ্বকাপে জোড়া পেনাল্টি ফস্কালেন মেসি।প্রথম গোল ১৫ মিনিটে ইব্রাহিমের অনবদ্য হেডারে। এক গোলে এগিয়ে সাজঘরে ফিরল মিশর।


দ্বিতীয়ার্ধে মিশরের কাউন্টার অ্যাটাকে ৫৮ মিনিটে জিকোর দুরন্ত গোল, কিন্তু বিধি বাম, গোল বাতিল হল ভিএআরে। কিন্ত মিশরকে আটকায় কে, ৬৭ মিনিটে দ্বিতীয় গোল মোস্তাফার। মিশর যখন কোয়ার্টার ফাইনালের গন্ধ পেতে শুরু করেছে।তখনই খেলায় ফিরল নীল সাদা ব্রিগেড।৭৯ মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস ডান দিক থেকে উড়ে আসে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর কাছে। আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার দুর্দান্ত হেডে গোল করে ব্যবধান কমালেন। ৮৪ মিিটে মেসি ম্যাজিক। বক্সের মধ্যে ফের বাঁ-পায়ের চেনা শট জড়িয়ে গেল মিশরের জালে। বিশ্বকাপে তাঁর ২১ তম গোল। চলতি বিশ্বকাপে অষ্টম। 


ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে জয়সূচক গোলটি করল আর্জেন্টিনা।ডানদিক থেকে একটি ক্রস বাড়ালেন লাউতারো মার্তিনেজ। সেই ভাসানো বলে একটা নিখুঁত হেড করলেন এনজো ফার্নান্ডেজ। ৩-২ গোলে জিতে টানা দ্বিতীয়বার কাপ জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল স্কালোনির দল।