বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ কে হবে তা উত্তর পাওয়া যাবে বুধবার রাতেই। হাইভোল্টেজ দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা(Argentina) মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ডের(England)।
মেসি-মার্টিনেজ থেকে হ্যারি কেন-জুদে বেলিংহাম, দুই দলেই তারকার ছড়াছড়ি, এক কথায় স্টার ওয়ার।নকআউটে তিনটি ম্যাচেই কষ্ট করে জিতেছে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কঠিন পরীক্ষা বেশ কঠিন, তবে হ্যারি কেনদের ফাইনালের টিকিট পাওয়াও সহজ হবে না।
ইংল্যান্ডের স্ট্রাইকিং লাইন বেশ শক্তিশালী। হ্যারি কেন এবং জুড বেলিংহ্যামদের আটকানো বড় চ্যালেঞ্জ আর্জেন্টিনা ডিফেন্সের সামনে । দু’জনেই বিশ্বকাপে ছ’টি করে গোল করেছেন। প্রতিপক্ষ দলের স্ট্রাইকারদের নিয়ে আর্জেন্টিনা কোচ স্কালোনির মন্তব্য, “হ্যারি কেন, জুডে বেলিংহ্যাম উভয়েই ভালো ফুটবলার। বিশ্বের অন্যতম সেরা। তবে ওদের থামানোর অস্ত্র আমাদের জানা আছে। তবে আমরাও আমাদের পরিকল্পনা তৈরি রাখছি।ওরা যাতে ভাল খেলতে না পারে সেই চেষ্টা করব। মাঠেই সেটা দেখা যাবে।”
মেসিকে নিয়ে রীতিমতো হোমওয়ার্ক করেই নামছে ইংল্যান্ড। । টমাস টুখেল বলেছেন, 'আমরা ওদের খেলার কিছু ধরন দেখেছি। কিন্তু সেই রাস্তা বন্ধ করলে ঠিক নতুন পথ তৈরি করে নেবে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ও মেসির বিরুদ্ধে খেলাটা এক অনন্য অনুভূতি। ওর কাছে বল গেলেই ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেয়। এটাই ওর আসল শক্তি। বাঁ-পায়ের জন্য জায়গা তৈরি করে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ফিনিশ করে।'
এই ম্যাচ হলেই অবধারিতভাবে উঠে আসে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের পুরনো ইতিহাস। এই ম্যাচের আগে ফকল্যান্ড যুদ্ধের আর্জেন্টিনার প্রবীণ সেনানীদের সংগঠনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতি জারি হয়েছে। যুদ্ধকে ফুটবলকে আলাদা রাখার কথ বলা হয়েছে। বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল কোনও সশস্ত্র যুদ্ধের জায়গা হতে পারে না। গ্যালারিতে বসে প্রিয় দলকে সমর্থন করার সময় যেন ফকল্যান্ড যুদ্ধে প্রাণ উৎসর্গকারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়।
দুই দলের কোচই এই ঐতিহাসিক দ্বন্দ্বকে খেলার মাঠ থেকে দূরে রাখতে চান। টুখেলের জানিয়েছেন, 'আমরা একে ইন্ধন হিসেবে ব্যবহার করছি না। আমরা জানি, কেন এখানে এসেছি। শুধু পরের জয়টা চাই। স্কালোনির কথায়,, এটা স্রেফ একটা ফুটবল ম্যাচ। তাই আমি এটাকে ফুটবল ম্যাচ হিসাবেই দেখতে চাই। আমার অন্তত এটাই বলার।
২০০২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলে শেষবার ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচ হয়েছিল। সেই ম্যাচে পেনাল্টি থেকে ডেভিড বেকহ্যামের করা একমাত্র গোলে জয় পায় ইংল্যান্ড। এবারও সেই ফলের পুনরাবৃত্তির আশায় ইংল্যান্ড শিবির। ১৯৬৬ সালে একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে প্রায় প্রতিটি বিশ্বকাপেই কোনও না কোনও ট্র্যাজেডির সাক্ষী হয়েছে ইংল্যান্ড।
















