ফিফা বিশ্বকাপের(FIFA World Cup) ফাইনালে আর্জেন্টিনা(Argentina)। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের(England) বিরুদ্ধে পিছিয়ে থেকে ২-১ গোলে জিতল আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডন। আর্জেন্টিনার হয়ে সমতায় ফেরান এঞ্জো ফার্নান্ডেজ। জয়সূচক গোলটি করেন লাউটারো মার্টিনেজ। ফাইনালে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে স্পেনের। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসিরা। অন্যদিকে তৃতীয় স্থান নির্ধারক ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ফ্রান্স।
প্রত্যাবর্তনের আরও এক নাম আর্জেন্টিনা। পিছিয়ে পড়েও কীভাবে জয় পেতে হয় কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তাও বিশ্বকাপের মঞ্চে তার আরও একবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মেসিরা। ম্যাচের বেশিরভাগ সময় ১ গোলে পিছিয়ে থেকেও সাত মিনিটে ঝড়ে ব্রিটিশ দর্পচূর্ণ।কেন তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বুঝিয়ে দিলেন মেসিরা।এই বারুদে ঠাসা সেমিফাইনাল নিছক একটা ফুটবল ম্যাচ ছিল না। মাঠের ২২ জন যোদ্ধার সঙ্গে টাচলাইনের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা দুই মায়েস্ত্রোর কৌশলের লড়াইটাও ছিল দেখার মতো।
হাইভোল্টেজ ম্যাচের প্রথমার্ধের ফুটবল বেশ বিরক্তিকর। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার খেলা মন ভরাতেই পারল না। নিজেদের খেলা না খেলে ইংল্যান্ডের খেলা নষ্ট করতে নেমেছিল তারা। পর পর ফাউল হচ্ছিল। দু’দলের বলই মাঝমাঠের এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াল। বিস্তর ফাউল ও দু’টো হলুদ কার্ড। গোলের আশেপাশেও কেউ পৌঁছতে পারেননি। প্রথমার্ধ শেষে ফল ০-০।
৫৫ মিনিটে আর্জেন্টিনা ডিফেন্সের ভুলে ইংরেজ উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডন জালে বল জড়িয়ে দিলেন। ২০০২ সালের পুনরাবৃত্তির স্বপ্নে মশগুল হয়ে উঠে ইংল্যান্ড।কিন্ত ২০০২ আর ২০২৬ সালে মধ্যে অনেক পার্থক্য, স্কালোনির চালেই খেলায় ফিরল আর্জেন্টিনা।লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নাহুয়েল মোলিনা ও জুলিয়ানো সিমিওনের বদলে মাঠে নামেন নিকোলাস ওতামেন্দি, রডরিগো দি পল ও গনজালো মন্তিয়েল।
১ গোলে লিড নেওয়ার পরই ডিফেন্সে তালা লাগানোর পরিকল্পনা নেয় ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুসেল। কিন্তু আর্জেন্টিনার মতো দলকে শুধু ডিফেন্স করে আটকানো যায় না। লাগাতার আক্রমণ, সঙ্গে পি্কফোর্ডের দুরন্ত সেভ।
৮৫ মিনিটে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। মেসির পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে এনজো ফার্নান্দেজের শট জড়িয়ে গেল ইংল্যান্ডের জালে। গোল পাওয়া আর্জেন্টিনা রক্তের স্বাদ পাওয়া বাঘ। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে ফটো ফিনিশ আর্জেন্টিনার। । সংযুক্তি সময়ে মেসির ক্রসে হেড করে গোল করলেন পরিবর্ত নামা লাউতারো। আর ফিরতে পারেনি ইংল্যান্ড।সজাগ ছিল আর্জেন্টিনার ডিফেন্স। আরও এক বার ব্যর্থ হয়েই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হল তাদের।তাদের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন অধরাই থাকল। অন্যদিকে, এই নিয়ে সাতবার ফাইনালে আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয়বার কাপ জয়ের দুয়ারে মেসিরা।
















