একের পর এক ক্রিকেটার চোট নিয়ে ছিটকে যাচ্ছেন দল থেকে। তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। যার প্রভাব এসে পড়ছে বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে (Bengaluru's Centre of Excellence)। আরও উৎকর্ষতার জন্য গোটা দেশের ক্রিকেটাররা আসেন এখানে। চোট নিয়ে এলে চিকিৎসা হয়। তারপর রিহ্যাব। কিন্তু এখান থেকে ফিট ঘোষিত হওয়া প্লেয়ার যদি পুনরায় আনফিট ঘোষিত হন তাহলে প্রশ্ন উঠবেই। ফলে এনসিএর ডিরে্টর ভিভিএস লক্ষ্ণণে (NCA Director VVS Laxman) জবাব দিতে হচ্ছে। রবিবার যেমন জবাব দিলেন।
বোর্ড সচিব দেবজিত শাইকিয়াকে (Board Secretary Debajit Saikia) পাশে বসিয়ে রবিবার বেঙ্গালুরুতে সাংবাদিক বৈঠক করেছেন লক্ষ্ণণ। তাতে তিনি বলেন, আমরা কাউকে দোষ দিতে চাই না। ব্লেম শব্দটা তোলা মানেই তো কার দোষ খুঁজতে বসে পড়া। কাউকে বলির পাঁঠাও করা হবে। সুতরাং আপনারা যেভাবে বিষয়টিকে দেখছেন আমি সেভাবে দেখছি না। ভারতীয় দল, নির্বাচক, সিওই, সাপোর্ট স্টাফ সবার মধ্যে সুন্দর বোঝাপড়া রয়েছে। আপনারা বুমরা ও সুদর্শনের কথা বলছেন। যখন এদের ফিটনেস রিপোর্ট চাওয়া হয়েছিল আমরা সেটা নির্বাচক, হেড কোচ, বিসিসিআই-সহ সব পক্ষের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। তবে বুমরা ও সুদর্শনের ক্ষেত্রে আমরা সাবজেক্ট টু ফিটনেস কথাটা বলেছিলাম। আমি বলে দিয়েছিলাম ওদের দলে নেওয়ার আগে ফিটনেসের ব্যাপারটা সেইমুহূর্তে একবার দেখে নিতে।
এটা হল একটা স্টেজ থেকে আরেকটা স্টেজে যাওয়ার প্রসেস। কিন্তু ফিটনেসের (Fitness) উন্নতি ধীরে ধীরে হলে বিষয়টা তখন নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান ও হেড কোচের হাতে চলে যায়। এক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে দুই ক্রিকেটার এখনও ম্যাচ খেলার জায়গায় আসেনি। তবে সিওএ শুধু রিহ্যাব সেন্টার নয়। তার আরও কাজ আছে। সেটা ক্রিকেটারদের উন্নতির স্বার্থে।
চোট সমস্যায় জর্জরিত ভারতীয় দলকে নিয়ে কথা বলতে রবিবার বেঙ্গালুরুতে আসেন বোর্ড সচির শাইকিয়া। এই মুহূর্তে বুমরা, সুদর্শন, হর্ষিত রানা, নীতীশ রেড্ডি, ওয়াশিংটন সুন্দর, আকাশ দীপ সবাই চোটের কবলে রয়েছেন। এছাড়া সিওই-তে রয়েছেন হার্দিক পান্ডিয়া, বরুণ চক্রবর্তী, প্রিন্স যাদবও। স্বভাবতই ভারতীয় বোর্ড এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
২০২৫-এ নীতিন প্যাটেল চলে যাওয়ার পর সিওইতে স্পোর্টস সায়েন্সের কেউ নেই। হর্ষিত রানার মতো ক্রিকেটারদের কয়েকজনকে সুস্থ হওয়ার আগেই ফিট ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছিল। ফলে সেন্টার অফ এ্সেলেন্সের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
লক্ষ্মণ এদিন আরও বলেন, আমরা সাধারণত দল নির্বাচন সিরিজের ২১-২৮ দিন আগে করে নিই। তখনও পর্যন্ত চোট পাওয়া ক্রিকেটারের সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে রিপোর্ট দিই। এরপর রিহ্যাব। তারপর ফিটনেস টেস্টে উত্তীর্ণ হলে তাকে দলে নেওয়া হয়। শাইকিয়া জানান, এটা তাঁরা দেখে নেন যে সেই ক্রিকেটার সফরে গেলে মাঠে নামার আগে ফিট হয়ে যেতে পারে কিনা। তাঁরা প্লেয়ারদের বঞ্চিত করতে চান না। কেউ ১৪ দিনে ফিট হয়, কেউ ২৮ দিনে। এটা মানুষের শরীর। এমন হতেই পারে।
















