মিড ডে মিলের জন্য স্কুল যাওয়া, মায়ের গহনা বিক্রি, অস্মিতার মুখে সোনা জয়ের নেপথ্যের কাহিনি
কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জয় অতীত, এবার অস্মিতার লক্ষ্য এশিয়াড ও অলিম্পিকে পদক জেতা। কমনওয়েলথ গেমসে জুডোতে সোনা জিতে রাতারাতি প্রচারের আলোর তলায় ত্রিপুরার বাঙালি কন্যা।
Sponsored

কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জয় অতীত, এবার অস্মিতার লক্ষ্য এশিয়াড ও অলিম্পিকে পদক জেতা। কমনওয়েলথ গেমসে জুডোতে সোনা জিতে রাতারাতি প্রচারের আলোর তলায় ত্রিপুরার বাঙালি কন্যা। কলকাতার সফরে এসে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের বসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের যাত্রাপথের কঠিন কাহিনী তুলে ধরলেন।।
ছোট বেলায় খুব সুখের ছিল না অস্মিতার। পড়াশুনা করতে ভালো না লাগলেও একবেলা খাবারের জন্যই যেতে হত স্কুলে। মেয়ের স্বপ্নপূরণে মাকে বেচতে হয়েছে সোনার গহনা। গেমসের কয়েক মাস আগে হয়েছেন পিতৃহারা। না কোনও কিছুই অস্মিতার সোনা জয়ের পথে অন্তরায় হয়নি। তাঁর কথায়, ছোট থেকেই মারপিট করতে খুব ভালো লাগত, তাই জুডোর মতো খেলাকে বেছে নিয়েছিলাম। স্কুলে যেতাম মিড ডে মিলের খাবারের জন্য। কিন্তু একটা সময় পরিবারের অবস্থা ভালো ছিল না। দিল্লিতে একটা টুর্নামেন্ট এ গিয়ে সোয়েটার কেনার টাকা ছিল না মা নিজের গহনা খুলে দিয়েছিলেন। গেমস শুরুর কয়েক মাস আগে বাবা মারা যাওয়ায় মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। কিন্তু নিজেকে মোটিভেট করি।।নিজের লক্ষ্য থেকে সরিনি। আমার লক্ষ্য ছিল পদক যেটা নিজের একটা বাড়ি তৈরি করা।
সোনা জয়ের মুহুর্তের প্রসঙ্গ উঠতেই আবেগেপ্রবন হয়ে উঠেন অস্মিতা। তাঁর কথায়, ফাইনালে খেলতে নামার আগে মাকে ভিডিও কল করি। মা আমাকে বলেন আজ তুমি জিতবেই। বাবাকে যেখানে দাহ করা হয়েছিল সেই জায়গাটা ভিডিও কলে দেখান মা। সোনা জয়ের পর প্রথম মাকে ফোন করে আনন্দটা ভাগ করে নিয়েছিলাম।
ত্রিপুরার শুরু করলেও পরে উত্তর প্রদেশে চলে যান। সেই রাজ্য থেকেই প্রতিনিধিত্ব করেন। একটা সময় ত্রিপুরার স্পোর্টস স্কুলে একসঙ্গে অনুশীলন করতেন দীপা কর্মকারের সঙ্গে। ফুটবল ক্রিকেটের মতো আগামী দিনে জুডো যে জনপ্রিয় হবে সেটা জানাতে ভুল করলেন না অস্মিতা। তাঁর কথায়, এখন জুডো খুব জনপ্রিয় হয়ে গিয়েছে দেশে । আগামী দিনে এই খেলা গুলো আরও জনপ্রিয় হবে। মা বাবাদের বলব ছেলে মেয়েরা যেটা খেলতে চায় সেটাই তাদের উৎসাহিত করুন।
Cwg তে সোনা জিতে ঝটিকা সফরে কলকাতায় অস্মিতা দে। কয়েক ঘন্টা কাটালেন কলকাতাতে। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সংবর্ধনা থেকে দাদাগিরির শুটিং দিনভর ব্যস্ততা। সেইসঙ্গে মন খুলে কথা বলে গেলেন তাঁর সাফল্যের যাত্রাপথ থেকে আগামীর লক্ষ্য।
সকালে শ্যাম সুন্দর জুয়েলার্সের সংবর্ধনা , পরের গন্তব্য ছিল দাদাগিরি সেট। সন্ধ্যায় এলেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে। প্রয়াত ক্লাব সচিব পল্টু দাসের জন্মদিনে তাকে সংবর্ধিত করা হল। লাল হলুদ ক্লাবের ভালোবাসাতে আপ্লুত অস্মিতা। কলকাতার ভালোবাসায় আপ্লুত অস্মিতা। বাঙালি হওয়ায় জানেন কলকাতায় ইস্ট মোহনের ডার্বির কথা। সাংবাদিকদের কাছে জানতে চাইলেন পরের ডার্বি কবে? সময় সুযোগ হলে গ্যালারিতে বসে যে ডার্বির উত্তেজনা উপভোগ করতে চান সেই ইচ্ছেয় জানিয়ে রাখলেন।সোনার মেয়ে মাছ প্রীতি তো আছেই তবে টক ঝাল ফুচকাও তাঁর ফেভারিটের তালিকায়।। কলকাতার মিষ্টিও মনে ধরেছে অস্মিতার ।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













