বিশ্ব দাবার কিংবদন্তি ম্যাগনাস কার্লসেনকে হারিয়ে চমক দিলেন ভারতীয় কিশোর। সাপ্তাহিক ব্লিৎজ টুর্নামেন্ট 'Tilted Tuesday'-এ ৫ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে হারিয়ে চমক দিলেন বন্দন অলঙ্কার সোয়াই। দিল্লির ১৫ বছরের বয়সি দাবাড়ু অনলাইনে কার্লসেনকে হারিয়ে টেবিলেই ঘুমিয়ে পরলেন।
সাদা ঘুঁটি নিয়ে খেলেছিল বন্দন। বুদ্ধির লড়াইয়ে ৫০ চালের মধ্যেই বিশ্বসেরা কার্লসেনকে হারিয়ে দিলেন বন্দন। ২৬তম চালে কার্লসেনের একটি ভুলই বদলে দেয় খেলার গতিবিধি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। শেষ পর্যন্ত ১৫ বছরে ভারতীয় কিশোরের চালে পরাস্ত হলেন কার্লসেন। তবে ম্যচ জয়ের পর কাউকে কিছু বলেননি বন্দন। ঘুমিয়ে পরেন। পরের দিন বাবা অন লাইনে দেখেন তাঁর পুত্র হারিয়ে দিয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে। কার্লসেনকে হারানোর গল্প নিয়ে যখন মাসের পর মাস আড্ডা দেওয়া যায়, তখন দিল্লির এই কিশোর যেন এক অন্য গ্রহের বাসিন্দা! অনামী বন্দনকে নিয়ে এরপরই শুরু হয়েছে প্রবল চর্চা। অনেকেই তাঁর মধ্যে প্রজ্ঞানন্দের ছায়া দেখতে পাচ্ছেন।
শুধু দাবার খেলায় নয় বন্দন পড়াশোনায় দারুণ তুখোড়। সিনেমা বা গল্পবইয়ের নয় দাবার পর যুদ্ধের ইতিহাসেই বেশি আগ্রহ বন্দনের। ভবিষ্যতে দাবাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার বিষয়েও সে নিশ্চিত নয়। আপাতত ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে বন্দন। বন্দনের কথায়, 'ভবিষ্যতে দাবা আমার পুরো সময়ের পেশা হবে কি না, জানি না। কারণ এই বয়সেই অনেকে গ্র্যান্ডমাস্টার হয়ে যাচ্ছে। হয়তো ইতিহাস বা রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়েই পড়াশোনা করব।'
উল্লেখ্য, এর আগে ৪ বছর আগে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনলাইন Airthings Masters র্যাপিড টুর্নামেন্টে মাত্র ১৫ বছর বয়সে কার্লসেনকে হারিয়ে ছিলেন জ্ঞানানন্দ। আনন্দ ও হরি কৃষ্ণের পর তিনি ছিলেন তৃতীয় ভারতীয়, যিনি কার্লসেনকে পরাজিত করেন। এরপর তিনি চেসেবল মাস্টার্স এবং নরওয়ে চেসের ব্লিৎজ ইভেন্টেও কার্লসেনের বিরুদ্ধে একাধিক জয় পান।
মরশুমের তৃতীয় শিরোপা জয়ের সামনে ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার আর প্রজ্ঞানন্দ। জার্মানির ভিনসেন্ট কিমারকে ১৯-৯ ব্যবধানে উড়িয়ে গ্র্যান্ড চেস ট্যুরের শেষ পর্বের ফাইনালে উঠলেন প্রজ্ঞা। ফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ অন্যতম ফেভারিট এবং গতবারের চ্যাম্পিয়ন আমেরিকার ফাবিয়ানো করুয়ানা। কিমারের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ক্ল্যাসিক্যাল গেম জিতে প্রজ্ঞানন্দ ৬ পয়েন্টের বড় অ্যাডভান্টেজ নিয়ে শেষ দিনে নামেন। সোমবার ছিল র্যাপিড ম্যাচ। পরপর দু’টি র্যাপিড গেমে কিমারকে হারিয়ে ১৭-৩ এগিয়ে যান ভারতীয় দাবাড়ু। ফলে ফাইনালে ওঠা কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়।
















