উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহের বাসিন্দা ঝুমা বসু (Jhuma Bose) ১৯৯৯ সালে ইম্ফলে জাতীয় স্তরে সেপাক টাকরোয় রুপো জিতে রাজ্যের নাম উজ্জ্বল করেছিলেন। তিন বছর পর পেয়েছিলেন ব্রোঞ্জ পদকও। কিন্তু বাংলার কৃতিকে কুর্নিশ জানিয়ে তাঁর সাফল্যকে সরকারি স্বীকৃতি দেয়নি পূর্বতন বাম সরকার। তৃণমূল জমানাতেও ছবিটার কোনও পরিবর্তন হয়নি। কিন্তু পালাবদলের বাংলায় পদ্ম সরকার সরকারি চাকরির মোড়কে ঝুমার পদকপ্রাপ্তির সাফল্যকে স্বীকৃতি দিল। সম্প্রতি জাতীয় গেমসে বাংলার হয়ে পদকজয়ী ৭৮ জন ক্রীড়াবিদকে চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Govt of West Bengal)। আর সেই তালিকাতেই নাম রয়েছে ঝুমার। ইতিমধ্যেই সেই বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। 

খেলোয়ার হিসেবে মাঠে না থাকলেও ক্রীড়াজগত থেকে দূরে নেই ঝুমা। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক রেফারি হওয়ার পাশাপাশি বাড়ির কাছে একটি কোচিং ক্যাম্প চালান। ২৭ বছর আগে পদক পেয়েছিলেন তাই প্রায় আড়াই দশকের বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর সেই সাফল্য উদযাপনের স্বীকৃতি স্বরূপ সরকারি চাকরি মিলবে তা তিনি আশা করেননি। খবরটা জানার পর ধাতস্থ হতে কিছুটা সময় নিয়েছেন। প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় ঝুমা বলেন, “একেবারেই অপ্রত্যাশিত খবর। যেটা ভাবতে পারিনি, সেটা পেয়ে গেলাম। যখন পুরোদমে খেলতাম, তখন কিছুই হল না। দু’টো জাতীয় গেমসে পদক পেয়েছি। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে সাফল্য এনেছি। কিন্তু সরকারের তরফে কোনও সম্মান পাইনি। এরপর আর চাকরি পাওয়া নিয়ে কোনও ভাবনা, কোনও আশা ছিল না। ফলে এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সহজ নয়।আমরা যখন খেলতাম, সরকারি লোকজনের কাছে সেপাক টাকরো শব্দটাই অচেনা ছিল। ফলে আমরা কিছুই পাইনি।” এরপরই বর্তমান রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন এই স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতে আরও অনেক প্লেয়ারকে উঠে আসতে সাহায্য করবে। 

বাংলার হয়ে যাঁরা জাতীয় গেমসে পদক জিতেছেন সেই তালিকায় রয়েছেন ফুটবলার অমিত চক্রবর্তীও। ২০২২ জাতীয় গেমসে সোনাজয়ী দলের এই সদস্য ময়দানের চেনা মুখ।খেলেছেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে। যদিও সেটা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি, তারপর মূলত কাস্টমস, ইউনাইটেড স্পোর্টসের মতো ক্লাবেই দেখা গিয়েছে তাঁকে। ৩৬ বছর বয়সী ফুটবলার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় ছিলেন। এই সময় সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে তার নাম দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন তিনি। ধন্যবাদ জানিয়েছেন পদ্ম সরকারকে। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের ক্রীড়া মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ (Indranil Khan) বলেন, সরকার খেলোয়াড়দের চাকরির দায়িত্ব নিচ্ছে যাতে তাঁরা চিন্তা মুক্ত ভাবে খেলায় মনোনিবেশ করতে পারেন এবং আরও অনেক পদক জয় করে রাজ্যের নাম উজ্জ্বল করেন সবার কাছে।