বৃষ্টি ভেজা দিনে দল বদলে বড় চমক মোহনবাগানের। যাবতীয় জল্পনার অবসান। ইস্টবেঙ্গলকে আইএসএল জেতানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নেওয়া ফুটবলারকেই ঘরে তুলে নিল মোহনবাগান।

গত মরশুেম আইএসএলের সেরা ফুটবলার   মিগুয়েল ফিগুয়েরার(Miguel Figueira) দলবদল নিয়ে জল্পনা চলছিল। প্রথম থেকেই লড়াইয়ে ছিল মোহনবাগান। অবশেষে শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ে বড় ঘোষণা করে দিল সবুজ মেরুন। আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের কথা ঘোষণা করলো মোহনবাগান। চুক্তি ২ বছরের। ২৬ বছর বয়সি এই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার কেরিয়ারের শুরুতে ব্রাজিলের সিরি ‘এ’-তে খেললেও দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে নিজের পরিচিতি তৈরি করেন বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংসের হয়ে। 

 

বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংস থেকে গত মরসুমে ইস্টবেঙ্গলে এসেই দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্স উপহার দেন ব্রাজিলীয় অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার মিগুয়েল। দীর্ঘ ২২ বছর পরে ইস্টবেঙ্গলকে ভারতের সর্বোচ্চ লিগ শিরোপা জেতানোর সঙ্গে তিনিও আইএসএলের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। অভিষেক মরশুমেই ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স শিরোপাও জেতেন। ১২ ম্যাচে ২টি গোলের পাশাপাশি ৫টি অ্যাসিস্ট করে জিতে নেন আইএসএলের সেরা ফুটবলারের সম্মান গোল্ডেন বল।

 

প্রতিপক্ষের সেরা ফুটবলারকে দলে নিল সবুজ মেরুন। এমবি এসজি মিডিয়া টিমকে সাক্ষাৎকারে মিগুয়েল ফিগুয়েরা বলেন, “মোহনবাগান সমর্থকরা অনেকটা ব্রাজিলের সমর্থকদের মতোই আবেগপ্রবণ, প্রাণবন্ত। কলকাতায় একবছর খেলার সুবাদে দেখেছি সবুজ মেরুণ সমর্থকদের দলের প্রতি ভালোবাসা। প্রত্যাশা আর আবেগ নিয়ে ওঁরা গ্যালারি ভরিয়ে তোলেন। ওঁরা ম্যাচ জেতা এবং চ্যাম্পিয়ন হওয়া ছাড়া আর কিছু ভাবেন না। সেজন্য সবকিছু উজাড় করে দিতে প্রস্তুত। গ্যালারির এই যে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চাপ. এটা নিয়ে খেলতেই আমি ভালবাসি এবং সেটা উপভোগও করি। সবুজ মেরুন জার্সি পরার জন্য আমি মুখিয়ে আছি। দেশের সেরা দলের সেরা সমর্থকদের সামনে নতুন জার্সি পরে নামব সেটা ভেবে রোমাঞ্চিতও হচ্ছি।“

 

কলকাতায় এক মরশুম খেলেই ডার্বির উত্তাপ টের পেয়েছেন। বড় ম্যাচ প্রসঙ্গে মিগুয়েল বলেন, “কলকাতা ডার্বি সবসময়ই বিশেষ ম্যাচ। সমর্থকদের কাছে এই ম্যাচের মাহাত্ম কী তা আমি জানি। ওই ম্যাচের দিনের সঙ্গে অন্য দিনের তুলনাই হয়না। এ বার ডার্বিতে আমি সবুজ মেরুন জার্সি পরে নামব। যেখানে যে প্রতিযোগিতাতেই ডার্বি হবে সেখানে মোহনবাগান জিতবে, জেতানোর জন্য একশো শতাংশ দেব আমি। নিশ্চিত থাকুন সবুজ-মেরুন সমর্থকরা। ডার্বি জেতা মানে সারা সপ্তাহটা ভাল যাওয়া। আর হারলে এক সপ্তাহ কষ্ট নিয়ে থাকতে হয়। সদস্য সমর্থকদের সেই কষ্টটা দিতে চাই না।“