মিলখা সিং থেকে শুরু। পিটি ঊষার পদক ছুঁয়েও না ছুঁতে পাওয়া দিয়ে আরম্ভ। তারপর অঞ্জু ববি জর্জের বিশ্ব অ্যাথেলেটিক্সের ব্রোঞ্জ জয়। ২০০৩ সালে বেজিং ওলিম্পিকে শুটিংয়ে অভিনব বিন্দ্রার সোনা। এই গত ওলিম্পিকে নীরজ চোপড়ার সোনা জয় বারবার ভারতের ক্রীড়া জগতকে আন্দোলিত করেছে। সবটাই ব্যক্তিগত নৈপুণ্য। সরকারি সাহায্য ছাড়াই।
এবার সম্ভবত সেই খাতায় নাম লেখাতে চলেছেন গুলবীর সিং। দেশের ডিসট্যান্ট রানার। গ্লাসগোর কমনওয়েলথ গেমসে গুলবীর ১০হাজার মিটারে রুপো ও ৫ হাজার মিটারে ব্রোঞ্জ জিতেছেন। ভারতীয় অ্যাথেলেটিক্সে এটা নতুন ইতিহাস। এর আগে কোনও পুরুষ অ্যাথেলেটিক্স এটা পারেননি।
গুলবীর কাদের সঙ্গে লড়েছেন? ছিলেন বিশ্বের সেরা ডিসট্যান্ট রানাররা। ওলিম্পিক পদকজয়ীরাও ছিলেন। দৌড় শুরুর পর প্রথমে তিনি শীর্ষ রানারদের সঙ্গে নিজেকে রাখেন। এরপর প্রতি হাজার মিটারে ছন্দ ঠিক রেখে গতি বাড়ান। শেষ ল্যাপের সময় পঞ্চম স্থানে ছিলেন। ক্রমশ এগোতে থাকেন। শেষ ১৫০-২০০ মিটার সেয়ানে সেয়ানে লড়াই কেনিয়ার কর্নেলিয়াস কেম্বোই এবং উগান্ডার কেনেথ কিপরপের সঙ্গে। কিন্তু গুলবীর নিজের স্ট্র্যাট্রজিতে আটল ছিলেন। ওরা নিজেদের মধ্যে লড়াই করছিল। শেষ মুহূর্তে
সকলকে চমকে দিয়ে গতি বাড়িয়ে কেম্বোইকে পিছনে ফেলে ব্রোঞ্জ জেতেন। অস্ট্রেলিয়ার কাই রবিনসন সোনা কেনিয়ার ম্যাথিউ কিপচুম্বা রুপো জেতেন।
আলিগড়ের সিরসা গ্রামের ছেলে গুলবীর। সেনায় যোগ দিতেই দৌড়নো শুরু। সেনার গ্রেনেডিয়ার্স রেজিমেন্টে যোগ দিয়ে অরুণাচলে যান। তার আগে আর্মি স্পোর্টসে প্রশিক্ষণ। অরুণাচলের পাহাড়ি এলাকায় অনুশীলন আরও ক্ষুরধার করে। সেনা থেকে আমেরিকার কলোরাডোয় স্কট সিমন্সের কোচিং পালটে দেয় গুলবীরকে। তারপর বাকিটা ইতিহাস।
















