হকি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে জিতলে সেমিফাইনালে ওঠার একটা ক্ষীণ আশা থাকত। কিন্তু ১-৩ গোলে হেরে সেমির অঙ্ক কেসি নাগের থেকেও কঠিন করে ফেলল ভারত। ৫ দশক পর বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন আরও  দূরে সরছে।

ইংল্যান্ডের কাছে গত ম্যাচে হারের পর এই ম্যাচ ছিল কার্যত ডু অর ডাই। শেষ চারের আশা টিকিয়ে রাখতে হলে ভারতকে এখন তাকিয়ে থাকতে হবে আর্জেন্তিনা বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচের দিকে—যেখানে ইংল্যান্ডকে ড্র বা হারতে হবে। এর পাশাপাশি পিঠের পুরোনো চোট নতুন করে দেখা দেওয়ায় ম্যাচ চলাকালীন দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন ছিলেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং।

 

ডাচদের বিরুদ্ধে ম্যাচে প্রথম কোয়ার্টারে খেলার ফল ছিল গোলশূন্য। নেদারল্যান্ডস গোলের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিল শেষদিকে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত  গোল পায়নি। তার আগে ভারতীয় খেলোয়াড়রা বল নিয়ে কোনও তাড়াহুড়ো করেননি। দেখেশুনে নিজেদের লোকেদের দিকে বল বাড়িয়েছেন। জার্মানপ্রীত সিং কয়েকবার প্রান্ত বদল করে বিপক্ষকে চাপে ফেলে দেন। পরের কোয়ার্টারেও খেলার ফল ছিল ০-০। নেদারল্যান্ডস অনেক চেষ্টা করেও গোলের মুখ খুলতে পারেনি। 

কিন্তু তৃতীয় কোয়ার্টারে এসে আর রোখা গেল না দীর্ঘকায় ডাচদের। এই কোয়ার্টারের ১১ মিনিটে নেদারল্যান্ডসের টিজমেন রেনগার রিভার্স হিটের পর বল বাউন্স করে ডুকো টেলগেমক্যাম্পের কাছে গেলে তিনি কাছ থেকে ১-০ করে দেন। পরে চতুর্থ কোয়ার্টারের ৬ মিনিটে ডাচদের দ্বিতীয় গোলটি করেন হোয়েডমেকার্স। ভারত অবশ্য পরের মিনিটেই একটি গোল শোধ করে দিয়েছিল। গোল করেন হরমনপ্রীত সিং। কিন্তু ১০ মিনিটে ফের নেদাররল্যান্ডসের হয়ে ৩-১ করে দেন থিজা ভ্যান ডাম। 

খেলার আগে ভারতের কোচ ক্রেগ ফুলটন বলেন, আমাদের প্রথম লক্ষ্য হল এই গ্রুপের গণ্ডি টপকানো। এই ম্যাচে আমরা পরিষ্কার আন্ডারডগ। আমাদের শুরুটা ভাল করতে হবে। নিজেদের ভাল করে রক্ষা করতে হবে। আর যে সুযোগ সামনে আসবে সেটা গ্রহণ করতে হবে। ওরা অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন। ওদের উপর চাপ থাকবে। সেটাই আমাদের সুবিধা। ওদিকে ডাচ কোচ জানান, এই ম্যাচ খুব কঠিন। এখান থেকেই আসল টুর্নামেন্ট শুরু হল। ভারত জানে এই ম্যাচ হারলে ওদের সমস্যা হবে। তাই এটা খুব কঠিন ম্যাচ আমাদের জন্য। আমরা জিতলে ৬ পয়েন্ট হবে। তাতে সেমিফাইনালের দিকে অনেক এগিয়ে যাব। শেষপর্যন্ত সেটাই হল।

পরিসংখ্যান বলছে ভারত ও নেদারল্যান্ডস এই ম্যাচের আগে পর্যন্ত ২৪ বার মুখোমুখি হয়েছিল। তাতে ডাচরা জিতেছিল ১১ বার। ভারত জিতেছিল ৭ বার। ৭টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ভারত গোল করেছিল ৪৭টি। নেদারল্যান্ডস গোল করেছিল ৫৫টি। এই তথ্য অনুযায়ী ভারত কিন্তু নেদারল্যান্ডসের থেকে খুব বেশি পিছনে নেই। নেদারল্যান্ডসের অধিনায়কের ভয় ছিল হরমনপ্রীতকে নিয়ে। ম্যাচের আগে তিনি বলেছিলেন, ভারত খুব বিপজ্জনক দল। আর ওদের অধিনায়ক হরমনপ্রীত দারুণ ফর্মে আছে। আর হরমনপ্রীত আগেই বলেছিলেন, আমাদের সুযোগ রয়েছে। আমরা শীর্ষ দলগুলোকে আগেও হারিয়েছি। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। ভারত হেরেই গেল।