ভারতের পুরুষ ও মহিলা হকি দল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতেই দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন অলিম্পিক পদকজয়ী ও প্রাক্তন অধিনায়ক পিআর সৃজেশ। তাঁর মতোই এই তোপে সামিল হয়েছেন আরেক প্রাক্তন বীরেন রাসকুইনহাও।
শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-৫ গোলে হারের পর সৃজেশ এক্স হ্যান্ডলে প্রশ্ন তুলেছেন, এই দল কি বিশ্বের সেরা দলগুলিকে হারানোর যোগ্য কিনা। তাঁর প্রশ্ন, আমরা কি সেরা দলগুলিকে হারাতে পারি? আমরা কি সেরা হকি খেলার মতো দল তৈরি করেছি? বিশ্বকাপ হল বিশ্বকাপ। শিখছি, ভাল খেলছি, সামনের টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুত হচ্ছি, এসব বলার জায়গা নয়। বিশ্বকাপ কোনও রিহার্সাল নয়। কিন্তু মুশকিল হল এসব প্রশ্ন তুলবে কে। কেই বা দায়বদ্ধতার কথা বলবে। সবথেকে বড় কথা হল, কেউ কি এসবে আদৌ মাথা ঘামায়?
প্রাক্তন গোলরক্ষক এরপর লিখেছেন, বিশ্বকাপ গেল তো গেল। সামনে এশিয়া কাপ আছে। এতে পদক জিতে ২০২৮ অলিম্পিকের কথা ভাবা যেতে পারে। তাতে অন্তত বিশ্বকাপের ভুল মুছে দেওয়া যাবে। পুরুষ দলের মতো মহিলা দলও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সৃজেশ। তিনি বলেছেন, বিশ্বকাপের আগে চিফ কোচ ছুটিতে চলে গেলেন। মেয়েরা তারপরও অনেক লড়েছে। কৃতিত্ব ওদের। কিন্তু দায়বদ্ধতা কোথায়? আমরা কি এটা দেখব যে একটা গুরুত্বপুর্ন টুর্নামেন্টের ফাইনাল প্রস্তুতির সময় কোচই থাকবে না? পুরুষ দল যোগ্যতা অনুযায়ী বেছে নেওয়া হয়েছিল কিনা সেটা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সৃজেশ। তিনি এই যে ভাল খেলা, শিখছি, অভিজ্ঞতা হল, দারুন হকি, এসব শব্দ কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন।
আরেক প্রাক্তন রাসকুইনহা প্রায় একই সুরে বলেছেন, এশীয় হকিতে ভাল ফল করে কোথায় গলদ হচ্ছে সেটা ধরা পড়বে না। কারণ এশীয় হকি এখন তলানিতে নেমে গিয়েছে। বরং এখন মাথা ঘামাতে হবে ফিটনেস, দল নির্বাচন, ট্যাকটিক্স, দলের গভীরতা এসব নিয়ে।
এদিকে ভারতীয় দলের বিশ্বকাপ ব্যর্থতার দায় নিলেন কোচ ক্রেগ ফুলটন। ভারতীয় হকি দলের কোচের দাবি, রেজাল্ট যা দেখাচ্ছে সেটা আসল ছবি নয়। একটু বড় করেই ব্যাপারটা দেখানো হচ্ছে। অর্থাৎ তাঁর দল এতটা খারাপ খেলেনি। ফুলটনের কথায়, আমরা স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারিনি। যদি সেটা পারতাম তাহলে ভাল হত। তবে এই হারের দায় আমি নিচ্ছি। না নিয়ে উপায় নেই। প্রাক্তনদের অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, আবার তো সব চাপা পড়ে যাবে। আমরা শিখছি, এই হার থেকে শিক্ষা নিলাম এসব বলার কোনও মানে হয় না। বিশ্বকাপ হল বিশ্বকাপ। এশীয় স্তরে দাপট দেখিয়ে আসল ছবিটা ধরা যাবে না। কারণ, এশিয়ার হকি এখন তলানিতে চলে এসেছে। দেখে মনে হচ্ছে ভারতীয় হকি বিশ্বমানের দলের বিরুদ্ধে লড়াই করার জায়গাতেই নেই। এই আবহে কোচ বলছেন, আমরা এই শুরুটা চাইনি। আর্জেন্টিনা সুযোগ নিয়েছে। তবে এটা ভেবে ভাল লাগছে যে আমরা ১০-১২ মিনিটের জন্য ম্যাচে ফিরেছিলাম। পাঁচ-ছয় মিনিটে হয়তো তিন গোল করে ফেলতাম। তবে বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছিল। তিনি থার্ড কোয়ার্টারে দল যে কার্যত দাঁড়াতেই পারেনি সেটা স্বীকার করে নিয়েছেন। এদিকে, ভারতীয় মহিলা হকি দলের কোচ সোয়ের্ড মেরিন দাবি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ড্র ম্যাচে তাঁরা সেভাবে কোনও সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। এই ০-০ ড্রতেই শেষ চারের সম্ভাবনা নষ্ট হয় যায় ভারতের। অস্ট্রেলিয়া টুর্নামেন্টে বেশি গোল করায় সেমিফাইনালে উঠে যায়।
















