২০২২ সালে একটুর জন্য পদক হাতছাড়া হয়েছিল, সোনা জয়ের শপথ নিয়েই গ্লাসগোতে গিয়েছিলেন। প্যারা শটপুটারে সোনা জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করলেন শর্মিলা ধনখড়(Sharmila Dhankhar)। অমপান, অবেহলা থেকে হার না মানা লড়াই সেখান থেকে কমনওয়েলথের পোডিয়াম। শর্মিলার জীবন রূপকথার এক গল্প।
হরিয়ানার মেয়ে শর্মিলার বাবা কৃষক। মা ছিলেন অন্ধ। মাত্র ২ বছর বয়সে পোলিওতে আক্রান্ত। বাড়িতে, স্কুলে, পাড়ায় কখনও তাকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা হয়েছে, কখনও তাকে অবহেলায় দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৯ বছর বয়সে পরিবারের চাপে বিয়ে করতে হয়। স্বামী মাতাল। প্রায় রাতেই মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরে চলত নির্যাতন। শর্মিলার কন্যাসন্তান হওয়ায় সেই অত্যাচারের মাত্রা বাড়ে আরও কয়েক গুণ। এভাবেই একদিন শর্মিলার সেই 'বীর পরাক্রম' স্বামী তার দুই কন্যাসন্তান আর শর্মিলাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিল। প্রতিবেশীদের হাসাহাসির মাঝেই দুই মেয়েকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ির এলাকা ছাড়েন শর্মিলা।
এই পরিস্থিতিতে অনেকেই হারিয়ে যান, কিন্তু শর্মিলার জীবনে এল নতুন মোড়। ২ সন্তানকে মেনে নিয়ে শর্মিলাকে বিয়ে করেন অজিত সিং। দ্বিতীয় স্বামী অজিত সিংয়ের কাছেই পান প্যারা অ্যাথলেটিক্সের প্রথম পাঠ। কোচ টেকচাঁদ এবং দেবেন্দ্রর অধীনে অনুশীলন শুরু করেন শর্মিলা। ২০২১ সালে প্যারা জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অভিষেকেই জাতীয় রেকর্ড গড়ে সোনা জেতেন। কিন্তু ২০২২ সালে কমনওয়েলথ গেমসে একটুর জন্য পদক হাতছাড়া। ২০২৩ সালে নিজের বাড়ি বিক্রি করে ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করেন, যাতে প্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে পারেন।
চলতি কমনওয়েলথ গেমসে যাওয়ার আগে শর্মিলা মনস্থির করেন সোনা ছাড়া অন্য কিছু জিতবেন না।হিলাদের প্যারা শটপুট (F57) ইভেন্টে ৯.৮১ মিটার দূরে শট ছুড়ে স্বর্ণপদক জয় করেন তিনি। এই পারফরম্যান্স ছিল চলতি মরশুমে তাঁর সেরা। শুধু তাই নয়, এই সাফল্যের মাধ্যমে প্যারা অ্যাথলেটিক্সে ২০ বছরের পদকের খরা কাটিয়ে ভারতকে প্রথম কমনওয়েলথ স্বর্ণপদক এনে দিলেন শর্মিলা।
এদিকে, অল্পের জন্য সোনা হাতছাড়া হলেও কমনওয়েলথ গেমস ভারোত্তোলনে রুপো জিতলেন জ্ঞীনেশ্বরী যাদব, ব্রোঞ্জ জিতলেন বিন্দ্যারানী দেবী, কমনওয়েলথ গেমসের ভারোত্তোলনে পঞ্চম পদক ভারতের
















