সদ্য কমনওয়েলথে সোনা জিতে কলকাতায় এলেন অস্মিতা দে(Asmita Dey )। বৃহস্পতিবার বিকেলে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়ার আগে শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্সের (Shyam Sundar Co Jewellers ) পক্ষ থেকে সম্মান জানানো হল তাঁকে।   ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে জুডোয় সোনা জিতে তিনি প্রথম ভারতীয় জুডোকা হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।

অস্মিতা দে-র পাশাপাশি তাঁর সাফল্যের নেপথ্যে থাকা মেন্টর প্রণব সাহা, চিফ কোচ তথা অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত যশপাল সোলাঙ্কি এবং ব্যক্তিগত কোচ তথা প্রাক্তন ব্রোঞ্জ পদকজয়ী বিজয় যাদব-কেও সংবর্ধিত করে করা হল শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্সের থেকে।

কলকাতায় এসে এমন ভালোবাসা পেয়ে অস্মিতা দে বলেন, “আমার প্রিয় নিজের রাজ্য থেকে এই সংবর্ধনা পাওয়া আমার কাছে অত্যন্ত গর্বের ও আবেগের বিষয়। এই সুযোগে এমন সুন্দরভাবে আমাকে ঘরে ফেরার অভ্যর্থনা জানানোর জন্য  আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”
তাঁর  কোচ যশপাল সোলাঙ্কি বলেন, “এই সম্মান আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিলো। আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য অলিম্পিকে পদক জয় l অস্মিতার পাশে থাকা পুরো দলকে স্বীকৃতি দেবার জন্য শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্সকে ধন্যবাদ।”

ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সচিব তথা এই সংস্থার প্রধান রূপক সাহা  বলেন, “ত্রিপুরার অস্মিতা দে-কে সংবর্ধিত করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি শুধু ভারতের জন্য গর্ব বয়ে আনেননি, তাঁর সাফল্য দেশের অন্যান্য প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ ক্রীড়াবিদদেরও অনুপ্রাণিত করবে। দেশের ভবিষ্যৎ যুবসমাজের হাতেই। তাই অস্মিতার মতো তরুণ প্রতিভাদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে সোনা জয় করতে দেখা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। আমরা এখন থেকে অস্মিতার গলায় অলিম্পিকের পদক দেখার অপেক্ষায় রইলাম ।"


ত্রিপুরার বিলোনিয়ায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা অস্মিতা দে তাঁর নিজ রাজ্য ত্রিপুরাতেই জুডোর প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নেন। পরবর্তীতে উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য তিনি ভোপালে স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার  রিজিওনাল সেন্টারে যোগ দেন। সেখান থেকে জুডোয় নিজের দক্ষতা আরও শানিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামঞ্চে একের পর এক সাফল্য অর্জন করেন।

খেলো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি গেমসে সোনা জয়ের পাশাপাশি তিনি ২০২৩-২৪ সালের জুনিয়র ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন হিসেবে খেতাব অর্জন করেন। এছাড়াও ২০২৫ সালে কাসাব্লাঙ্কায় অনুষ্ঠিত আফ্রিকান ওপেনে সোনা জেতেন অস্মিতা। ম্যাকাও ও ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জুডো চ্যাম্পিয়নশিপেও তিনি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন।