মেগা ফাইনাল ম্যাচের  বিশ্বকাপ জ্বরে আক্রান্ত গোটা দেশ। ব্যতিক্রম নয় বাংলাও। মোহন-ইস্টের সমর্থকরা এখন রাত জাগছেন মেসি-ইয়ামালদের। কলকাতা থেকে কোচবিহার, কাপ জ্বরে কাঁপছে গোটা বাংলা। 

নন্দন জেলায় জেলায় বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ সরাসরি দেখানোর ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার। প্রতিটি জেলা প্রশাসনকে ১ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। নন্দনে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন রাজ্যর ক্রীড়া মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিত থাকার কথা আছে নন্দনে। 

 কলকাতার পাশাপাশি জেলায় জেলায় উন্মাদনা তুঙ্গে। আসানসোল শিল্পাঞ্চলের স্বনামধন্য শিল্পী সুশান্ত রায় বরাবর মেসি ভক্ত। আসানসোলের মহিশিলায় তার ওয়াক্স মিউজিয়ামে তারই হাতে তৈরি বহু খেলোয়াড় এবং মনীষীদের মোমের মূর্তি স্থান পেয়েছে। কিন্তু মাস কয়েক আগে তিনি তৈরি করেছেন মেসির মূর্তি। ওয়ার্ল্ড কাপ ফুটবলে মেসির দল ফাইনালে ওঠায় তিনি আর্জেন্টিনার ওয়ার্ল্ড কাপ জয় সম্পর্কে আশাবাদী। তাই ফাইনালের দিনে তার হাতের তৈরি মোমের মূর্তি তার কাছে এক অন্য অনুভূতি।  এদিন তিনি মেসির মূর্তিকে ফুল দিয়ে পূজা করেন। এবং তার পাশে আগে থেকে রেখে দেন ওয়ার্ল্ডকাপের রেপ্লিকা।

আসানসোলের পাশাপাশি উন্মাদনায় ভাসছে কোচবিহার। সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন বাজার, স্পোর্টস সামগ্রীর দোকান ও অস্থায়ী স্টলে দেখা যাচ্ছে উপচে পড়া ভিড়। খুদে থেকে যুবক, এমনকি প্রবীণ ফুটবলপ্রেমীরাও নিজেদের পছন্দের দলের জার্সি কিনতে ভিড় জমিয়েছেন। কোচবিহারের বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই নীল-সাদা আর্জেন্টিনা এবং লাল-হলুদ স্পেনের জার্সির চাহিদা তুঙ্গে। দোকানদারদের দাবি, গত কয়েকদিন ধরে বিক্রি বাড়লেও ফাইনালের দিন সকাল থেকেই সেই চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। শুধু জার্সিই নয়, পতাকা, হেডব্যান্ড, ক্যাপ, বাঁশি ও বিভিন্ন ফুটবল সামগ্রী কিনতেও দেখা যাচ্ছে মানুষের উৎসাহ।


ফুটবলপ্রেমীদের একাংশের কথায়, চার বছর অপেক্ষার পর বিশ্বকাপের এই মহারণকে ঘিরে আলাদা আবেগ কাজ করছে। কেউ আর্জেন্টিনার সমর্থনে, কেউ আবার স্পেনের জয়ের আশায় নিজেদের প্রিয় দলের রঙে সেজে উঠছেন। শহরের বিভিন্ন মোড়, ক্লাব ও পাড়ায় বড় পর্দায় খেলা দেখানোর প্রস্তুতিও প্রায় শেষ। ইতিমধ্যেই নানা জায়গায় সাজসজ্জা শুরু হয়েছে, কোথাও টাঙানো হয়েছে বিশাল পতাকা, কোথাও আবার চলছে সমর্থকদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
দোকানদারদের বক্তব্য, প্রতি বিশ্বকাপের মতো এবারও ফাইনালকে ঘিরে ব্যবসা ভালো হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে জার্সির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের জন্য একসঙ্গে একাধিক জার্সিও কিনছেন।