বারুইপুর আদালতের (Baruipur Court) ঘটনার আঁচ এবার পৌঁছল কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court)। আদালত চত্বরে আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Sayan Banerjee) হেনস্থার অভিযোগকে হালকা ভাবে দেখছে না হাই কোর্ট। ঘটনা সম্পর্কে জানতে বারুইপুর পুলিশ জেলার এসপি এবং জেলা জজের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। সেই রিপোর্ট সামনে আসার পর প্রয়োজন মনে হলে আদালত নিজে থেকেই মামলা গ্রহণ করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে বেঞ্চ।
আরও পড়ুন: দমকলের ঢাল আরও শক্ত: ২২৬টি নয়া যানের উদ্বোধন, নিয়োগ নিয়েও বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
সোমবার ভাঙড় কলেজে বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসুর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতিকে ঢুকতে বাধা দেওয়া এবং এবিভিপি-র (ABVP) ছাত্রীদের উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য ও অশালীন অঙ্গভঙ্গির অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ভাঙড় থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। এরপর চার পড়ুয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মঙ্গলবার ওই চারজনকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে নিয়ে আসা হয়। শুনানি শেষে দুই এসএফআই (SFI) পড়ুয়াকে জামিন দেন বিচারক। অন্য দু’জনকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। ধৃতদের হয়ে আদালতে সওয়াল করতে উপস্থিত ছিলেন সায়ন।
আরও পড়ুন: সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের ‘ভণ্ডামি’ ফাঁস রাষ্ট্রসঙ্ঘে, সপাট জবাব ভারতের
এরপরই আদালত চত্বরে পরিস্থিতি বদলে যায়। জামিনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এবিভিপি-র পড়ুয়াদের একাংশ বিক্ষোভ শুরু করেন। সায়নকে ঘিরে ওঠে স্লোগানও। অভিযোগ, উত্তেজনার মধ্যেই তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়। পুলিশের উপস্থিতিতে আদালত চত্বরেই এই ধরনের ঘটনা ঘটায় বিষয়টি নিয়ে আরও উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে বারুইপুর থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা সেখানে পৌঁছন।
ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সায়ন। তাঁর বক্তব্য, আদালতের মতো জায়গায় পুলিশের সামনে একজন আইনজীবীর সঙ্গে এই ধরনের আচরণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনাটিকে গণতন্ত্রের লজ্জা বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে এখানেই শেষ নয়। বারুইপুর আদালতের এই ঘটনা বুধবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে তুলে ধরেন আইনজীবীদের একাংশ। বিষয়টি শোনার পরই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চেয়ে পাঠায় হাই কোর্ট। বারুইপুরের পুলিশ সুপার এবং জেলা জজ, দু’জনের কাছ থেকেই রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।
এখন সেই রিপোর্টের দিকেই নজর। আদালত সূত্রে পাওয়া তথ্য খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করবে হাই কোর্ট। প্রয়োজনে বারুইপুর আদালত চত্বরে আইনজীবী হেনস্থার এই ঘটনা নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণ করা হতে পারে বলেও স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
















