তৃণমূলকে (TMC) ক্ষমতাচ্যুত করতে বামপন্থীদের একাংশ বলেছিল, "আগে রাম, পরে বাম।" অর্থাৎ তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করে বিজেপিকে মসনদে বসিয়ে নিজেদের প্রধান বিরোধী দল এবং পরবর্তীতে ক্ষমতার আসনে দেখতে চেয়েছিল তারা। তবে রাজ্যে পরিবর্তনের পর বামেদের সেই স্বপ্ন যে অধরা রয়ে গিয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। উল্টে বামপন্থীদের বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে বিজেপি (BJP)। খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানিয়ে দিয়েছেন, দুর্গাপুজোর জায়গায় 'শারদোৎসব' লিখে স্টল দিলে তা খুলতে দেওয়া হবে না। যদিও তৃণমূল আমলে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা ছিল না। বরং দুর্গাপুজোকে উৎসবের আকারেই দেখতো বিগত সরকার। তবে এবার পরিবর্তনের সঙ্গে বদলেছে সেই ছবিও।

আরও পড়ুন: বিধায়কদের ‘লাইফস্টাইল’-এও নজর দিল্লির! বাংলায় এসে 'খবরদারি' নীতিনের

স্টল নিয়ে এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করলেও বামেদের এই পরিস্থিতির জন্য তারা নিজেরাই দায়ী বলে মনে করছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তাঁর কথায়, "বিজেপি-ই দেশ ও রাজ্যের মূল শত্রু। বামেরা অন্ধ তৃণমূল বিরোধিতা করতে গিয়ে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বিজেপিকে মদত দিয়ে ফেলেছে। বামেদের একাংশের ভোট বিজেপিতে চলে গিয়েছে, তাই এখন তাদেরই ফলাফল ভুগতে হচ্ছে।"

আরও পড়ুন: ভাতার পরে বাড়ল খাদ্য বরাদ্দ! অঙ্গনওয়াড়ির উন্নয়নে দরাজহস্ত মুখ্যমন্ত্রী

"এবার পুজোয় বাম-বধ", এমন ব্যানারই ঝুলছে পুজো কমিটির উদ্যোগে। পুজোর বুকস্টলে CPIM, DYFI, SUCI-সহ কোনও বামপন্থী সংগঠনকে জায়গা দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা করেছে কামারডাঙা দুর্গোৎসব কমিটি। এ নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্যানারও টাঙানো হয়েছে এলাকায়। সেখানে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, বামপন্থী সংগঠনগুলির কোনও স্টল বসতে দেওয়া হবে না।

এবার কামারডাঙার পুজো ১০৭ বছরে পড়ছে। পুজোর মূল ভাবনা ‘সনাতন হিন্দু রাষ্ট্র’। সেই আয়োজনের মধ্যেই বামপন্থী সংগঠনগুলির স্টল নিয়ে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে চর্চা। উদ্যোক্তাদের দাবি, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে বামপন্থী সংগঠনগুলিকে তাঁরা একসঙ্গে রাখতে চান না।

পুজো কমিটির উদ্যোক্তা সুরজ কুমার সিংয়ের বক্তব্য, বামপন্থীরা ধর্মে বিশ্বাস করেন না বলেই তাঁদের পুজোয় কোনও স্টল করতে দেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, দুর্গাপুজো একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সেই অনুষ্ঠানে বামপন্থী সংগঠনের উপস্থিতি তাঁরা চান না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও দুর্গাপুজোকে ‘শারদোৎসব’ না বলে দুর্গাপুজো হিসেবে উল্লেখ করার কথা বলেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অবশ্য কটাক্ষ করেছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। তাঁর কথায়, শুধুমাত্র প্রচারের আলোয় আসার জন্যই এ ধরনের ঘোষণা করা হয়েছে। কামারডাঙা দুর্গোৎসব কমিটি সম্পর্কে তিনি বিশেষ কিছু জানেন না বলেও জানিয়েছেন। তাঁর আরও অভিযোগ, সরকারের কাছ থেকে বেশি অনুদান পাওয়ার উদ্দেশ্যেই এমন প্রচার করা হতে পারে।