কালীঘাট মন্দিরের (Kalighat Kali Temple) নিয়ে এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ চাইল সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার (Sabarna Roy Choudhury family)। মন্দিরের সম্পত্তি ও গয়নার হিসাব, পরিচালন কমিটির কার্যকারিতা থেকে শুরু করে একাধিক বিষয়ে অভিযোগ তুলে প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি দিয়েছেন পরিবার পরিষদের সম্পাদক দেবর্ষি রায়চৌধুরী (Devarshi Roy Choudhury)।

আরও পড়ুন: ফের দোলাচলে সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজ, সোমেও এলেন না উপাধ্যক্ষ

চিঠিতে মন্দিরের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি উঠে এসেছে গয়না রাখার ভল্টের চাবির প্রসঙ্গ। সাবর্ণ পরিবারের দাবি, ওই ভল্টের চাবি প্রায় ৪৬ বছর ধরে নিখোঁজ। অথচ এই ঘটনায় এখনও কোনও এফআইআর হয়নি। ফলে ভল্টে ঠিক কী পরিমাণ গয়না বা মূল্যবান সামগ্রী রয়েছে, সেগুলি আদৌ সুরক্ষিত আছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

সাবর্ণ পরিবারের কথায়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী একটি ইনভেন্টরি কমিটির নিয়মিত গয়না ও মূল্যবান সামগ্রীর হিসাব নেওয়ার কথা ছিল। সেই হিসাব প্রতি ১৫ দিন অন্তর যাচাই করে সম্পদ ব্যাংকে জমা রাখার ব্যবস্থাও ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেই কমিটি কার্যত নিষ্ক্রিয় বলে অভিযোগ। শুধু গয়না বা আর্থিক হিসাব নয়, মন্দির চালানোর বর্তমান ব্যবস্থাকেও কাঠগড়ায় তুলেছে সাবর্ণ পরিবার। ১৯৬০ সালে সুপ্রিম কোর্ট কালীঘাট মন্দিরকে পাবলিক এনডাওমেন্ট ট্রাস্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে একটি পরিচালন কাঠামো নির্দিষ্ট করেছিল। সেই ব্যবস্থায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা জজের নেতৃত্বে সেবায়েত এবং সেবায়েত নন, এমন সদস্যদের নিয়ে কমিটি গঠনের কথা ছিল।

আরও পড়ুন: বিজেপিই নিয়ে গিয়েছে NCPI-তে, পুজোর আগেই ১৭ দলত্যাগী সাংসদ যাচ্ছেন গেরুয়া শিবিরে! বিস্ফোরক বসুনিয়ার

সাবর্ণদের অভিযোগ, সেই ব্যবস্থাও এখন কার্যত অচল। পাঁচ বছর অন্তর কমিটির নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও ২০১৪ সালের পর আর নির্বাচন হয়নি বলে দাবি তাদের। ফলে মন্দির পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষার বিষয়েও একাধিক অভিযোগ জানানো হয়েছে প্রধান বিচারপতিকে। পরিবারের দাবি, নিষেধ থাকা সত্ত্বেও গর্ভগৃহের ভিতরে মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা ব্যবহার করে ভিডিয়ো করা হচ্ছে। এমনকি সেবায়েত নন, এমন ব্যক্তিদেরও গর্ভগৃহে প্রবেশের অভিযোগ উঠেছে।

পাশাপাশি ভক্তদের হয়রানি নিয়েও সরব হয়েছে জমিদার পরিবার। মন্দির চত্বরে দালালদের দৌরাত্ম্য, নাটমন্দির বন্ধ থাকায় দর্শনে সমস্যা এবং নির্দিষ্ট সময়ে নিত্যপুজো, ভোগ ও আরতি না হওয়ার মতো অভিযোগও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে মূলত তিনটি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে সাবর্ণ পরিবার। মন্দিরের আর্থিক অনিয়ম ও অন্যান্য অভিযোগের তদন্তে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ অথবা অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের আর্জি জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে ১৯৬০ সালের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিত কাঠামো মেনে নতুন পরিচালন কমিটি তৈরির দাবি রয়েছে। সেখানে জেলা জজের পাশাপাশি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি, সাবর্ণ পরিবারের অন্তত দু’জন সদস্য এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।