গ্রাম পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল এনে বিজেপি ঘুরপথে পঞ্চায়েত দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে—রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে এভাবেই তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এদিন বিলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পাশাপাশি বিজেপি ও সংবাদমাধ্যমের একাংশের ভূমিকা নিয়েও একগুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি। সাংবাদিক বৈঠকে সংশোধনী বিলের প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ বলেন, প্রস্তাবিত বিলের ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রধান বা উপপ্রধান পাওয়া না গেলে সেখানে সরকারি অফিসার বসিয়ে কাজ চালানো হবে। কিন্তু এর পিছনে বিজেপির সুপরিকল্পিত চক্রান্ত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, এখনও পঞ্চায়েতগুলোতে তৃণমূলের প্রধান, উপ-প্রধান আছে। বিজেপি বিল আনে সুকৌশলে সেগুল হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।  

আরও পড়ুন: বাড়ছে গ্রেফাতরির সংখ্যা, ছাত্র যুবদের আন্দোলনে অশান্তি নিয়ে ফের কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

তৃণমূল বিধায়কের অভিযোগ, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে নির্বাচিত প্রধান ও উপপ্রধানদের পঞ্চায়েত দফতরে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে। প্রধান ও উপপ্রধানরা পঞ্চায়েতে পৌঁছানোর চেষ্টা করলেই তাঁদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এই প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষের কটাক্ষ, "ভয় দেখিয়ে ও চাপ সৃষ্টি করে জনপ্রতিনিধিদের অফিসে আসতে না দিয়ে, তারপর আবার বিল আনা হচ্ছে কেন? এটি স্পষ্টতই পঞ্চায়েত দখলের একটা অসদুপায়।"

শুক্রবার কলকাতার একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানান, তৃণমূল(মমতাপন্থী) কখনই কোনও বিশৃঙ্খলা সমর্থন করে না। তিনি বলেন, "আমাদের কর্মীরা শনিবারের সমাবেশে উপস্থিত ছিল। তবে এর মধ্যে 'বালিশ তৃণমূল'-এর ছেলেরা যুক্ত ছিল কি না, তা আমার জানা নেই। তবে যেকোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অশান্তি অবাঞ্ছিত।" অন্যদিকে, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নতুন বিল আনা প্রসঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, এটি তো একটা সিস্টেমের ব্যাপার, যারা এর সঙ্গে যুক্ত তাঁদের কঠোর শাস্তি দিলেই তহ হয়ে যায়। তাহলে আলাদা করে বিল আনার প্রয়োজন কেন পড়ছে? তবে এর বিরোধিতায় কেউ যাবে না বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের ওপর চলা হেনস্থা এবং মারধরের তীব্র নিন্দা করে কুণাল ঘোষ বলেন, যারা সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের হেনস্থা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আবহে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের লক্ষ্য করে 'ডিম মারার কালচার'কে যে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে প্রোমোট করা হচ্ছে, তার জন্যও সংবাদমাধ্যমের একাংশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং নিন্দা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: রামমন্দিরে অনুদান চুরির ঘটনায় ৩ IPS অফিসারের নেতৃত্বে নতুন SIT

CAG রিপোর্ট প্রসঙ্গে বলেন, "CAG কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত সংস্থা। ফলে তাঁরা যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে তা সম্পূর্ণ প্রশাসনিক বিষয়। কোনও তথ্য না দিয়ে যদি CAG একটা রাজনৈতিক দলিল তৈরি করে দেয় তাহলে কী করে হবে? যদি সঠিক তথ্য প্রমাণ থাকে তাহলে আইনেই তার ব্যবস্থা থাকবে।"