এসআইআর (SIR) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া এবং জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার কলকাতায় বাম মহিলা সংগঠনের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল। সিইও দফতরের দিকে মিছিল এগোতে গেলে বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিটে (B B Ganguly Street) পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তা আটকে দেয়। এরপর রাস্তায় বসেই অবস্থান শুরু করেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীণাক্ষি মুখোপাধ্যায়-সহ (Minakshi Mukherjee, member of the CPM Central Committee) বাম মহিলা নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, বাদ পড়া বৈধ ভোটারদের নাম দ্রুত তালিকায় ফেরাতে হবে এবং সেই দাবি নিয়েই সিইও দফতরে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: CEC জ্ঞানেশের নেওয়া সব সিদ্ধান্ত বাতিল করে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের দাবি: শীর্ষ আদালতে দায়ের PIL
মিছিল আটকে যাওয়ার পরই কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হন মীণাক্ষি। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ত্রুটি এবং অস্বাভাবিক কারণে বহু মানুষের নাম বাদ পড়েছে। তাঁর প্রশ্ন, ভোটার তালিকায় নাম ফেরানোর জন্য সাধারণ মানুষকে দফতর থেকে দফতরে ঘুরতে হবে, অথচ যাঁদের সিদ্ধান্তে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাঁরা দায় এড়িয়ে যেতে পারেন না। মীণাক্ষির কথায়, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ত্রুটিপূর্ণ এসআইআর করা হয়েছে। অদ্ভুত সব কারণ দেখিয়ে বহু মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় ফেরাতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আতঙ্কে, দুশ্চিন্তায় অনেকের মৃত্যু হয়েছে, কেউ কেউ আত্মহ্ত্যা করেছেন। তালিকায় নাম তোলার জন্য অসহায়, প্রান্তিক মানুষ এখানে ওখানে ছুটে বেড়াবেন আর জ্ঞানেশ নিশ্চিন্তে চেয়ারে বসে থাকবেন, এটা হতে পারে না! সিইও দফতকরে অনেক বার অভিযোগ জানানো হয়েছিল। তৎকালীন সিইও-র বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে তদন্ত হওয়া উচিত।”

শুধু নাম ফেরানো নয়, এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের খবর প্রকাশ্যে আসার পর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছে বাম নেতৃত্ব। কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা। মীণাক্ষির দাবি, তৎকালীন রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের (State Chief Electoral Officer Manoj Agarwal) ভূমিকা নিয়েও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, সিইও দফতরে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি।

এদিন ধর্মতলা থেকে বাম মহিলা কর্মী-সমর্থকদের মিছিল শুরু হয়। পতাকা ও ব্যানার নিয়ে এগোতে থাকা মিছিল প্রথমে গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউয়ের (Ganesh Chandra Avenue) কাছে বাধার মুখে পড়ে। পরে বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিটে পুলিশ তা আটকে দেয়। ব্যারিকেড টপকে এগোনোর চেষ্টা ব্যর্থ হলে সেখানেই বসে পড়েন মীনাক্ষী, কনীনিকা ঘোষ বোস-সহ বাম মহিলা নেতৃত্ব। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বাম নেতৃত্বের বক্তব্য, শুধু প্রশাসনিক বা আইনি জটিলতার মধ্যে বিষয়টিকে আটকে না রেখে ভোটাধিকার হারানোর অভিযোগগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। বিশেষ করে আসন্ন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের ভোটাধিকার নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তের দাবি তুলেছেন তাঁরা। এদিন সিইও দফতরে গিয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানানো হয়।
















