নিউটাউন-মুখী (Newtown) যানজট এখন নিত্যদিনের সমস্যা। অফিসের ব্যস্ত সময়ে মাত্র কয়েক কিলোমিটার রাস্তা পেরোতেই কেটে যায় দীর্ঘ সময়। সেই যানজটের বোঝা কমাতে বহুদিন ধরেই প্রস্তাবিত ছিল মেট্রোপলিটন-নিউটাউন ফ্লাইওভার (New Town–Metropolitan flyover)। অবশেষে সেই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে বড়সড় অগ্রগতি হল। মেট্রোপলিটন মোড় থেকে নিউটাউন পর্যন্ত প্রায় ৫.৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই উঁচু করিডোর তৈরির পরিকল্পনা এবং খরচের হিসাব অনুমোদন করেছে রাজ্যের নগরোন্নয়ন দফতর। এবার ফাইল গিয়েছে অর্থ দফতরে। সেখান থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই দরপত্র ডাকার প্রস্তুতি শুরু করতে পারবে কেএমডিএ।
আরও পড়ুন: বন্ধ হতে পারে রেশন কার্ড! ১ অক্টোবর থেকে বড় পদক্ষেপ, জানুন বিস্তারিত
তবে প্রকল্পের খরচ নিয়ে নতুন করে হিসাব কষতে হয়েছে। জুনের বাজেটে ফ্লাইওভারের জন্য ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। পরে প্রকল্পের সম্ভাব্য খরচ খতিয়ে দেখতে রেলের সহযোগী সংস্থা রাইটসকে দায়িত্ব দেয় কেএমডিএ। তাদের হিসাব অনুযায়ী, পুরো কাজ শেষ করতে প্রায় ১,২১৮ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাৎ আগের বরাদ্দের তুলনায় আরও ৩১৮ কোটি টাকা লাগবে। অতিরিক্ত এই অর্থের সংস্থানেই এখন অর্থ দফতরের অনুমোদন প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: হেলথ স্কিমে নাম নেই! মিলবে সরকারি রেটের চিকিৎসা
প্রস্তাবিত ফ্লাইওভারটি মেট্রোপলিটন মোড় থেকে উঠে চিংড়িঘাটা ও নিক্কো পার্কের উপর দিয়ে সেক্টর-ফাইভের দিকে এগোবে। এরপর নিউ টাউনের দিকে গিয়ে প্যানাস অ্যাপার্টমেন্টের কাছাকাছি শেষ হবে। শুধু মূল উড়ালপথ নয়, বিভিন্ন জায়গায় ওঠানামার জন্য র্যাম্পও থাকবে। ফলে বাইপাস, সেক্টর-ফাইভ এবং নিউটাউনের মধ্যে যাতায়াত আরও সহজ হবে।
ফ্লাইওভারে শব্দ কমানোর জন্য নয়েজ ব্যারিয়ার, নজরদারির জন্য সিসিটিভি এবং সেতুর কাঠামোর উপর নিয়মিত নজর রাখার জন্য বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত উড়ালপথের একটি অংশ পূর্ব কলকাতার জলাভূমির উপর দিয়ে যাবে। তা নিয়েই কেন্দ্রীয় গ্রিন বেঞ্চের আপত্তি ছিল। ফ্লাইওভারে জমা বৃষ্টির জল জলাভূমিতে সরাসরি পড়ে যাতে পরিবেশের উপর প্রভাব না ফেলে, তার জন্য বিশেষ ড্রেনেজ ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাইপের মাধ্যমে সেই জল অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। তাই সংস্থার তরফে সবুজ সংকেত মিলেছে।
মেট্রোপলিটন মোড় থেকে নিউটাউন, এই গোটা পথে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক গাড়ি চলাচল করে। বিশেষ করে সেক্টর-ফাইভের অফিসপাড়ায় কর্মব্যস্ত সময়ে গাড়ির চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। নতুন ফ্লাইওভার তৈরি হলে মূল রাস্তার পাশাপাশি একটি বিকল্প পথ তৈরি হবে। তাতে যানজট কমার পাশাপাশি বাইপাস থেকে নিউটাউন পৌঁছতেও সময় বাঁচবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এখন অপেক্ষা অর্থ দফতরের চূড়ান্ত ছাড়পত্রের। সেই অনুমোদন মিললেই দরপত্র ডাকার কাজ শুরু হবে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে কাগজে-কলমে থাকা মেট্রোপলিটন-নিউটাউন ফ্লাইওভার এবার সত্যিই নির্মাণের দিকে এগোয় কি না, নজর থাকবে সেদিকেই।
















