ধনধান্য অডিটোরিয়ামে (Dhono Dhanyo Auditorium) পালিত হল পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্পের (PM Vishwakarma) তৃতীয় বর্ষপূর্তি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হল পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্প। এদিনই বাংলায় প্রথম সরকারি ভাবে বিশ্বকর্মা দিবস পালন করা হল বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত কারিগররাই প্রকৃত অর্থে ‘বিশ্বকর্মা’। তাঁদের সম্মান জানাতেই এই দিনটি পালন করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে তাঁকেও শুভেচ্ছা জানান তিনি।

আরও পড়ুন: কুণালের উদ্যোগে সরকারি সাহায্য, নবান্নে গোপালের হাতে চেক

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পমন্ত্রী জিতন রাম মাঝি (Jitan Ram Manjhi)। রাজ্যে পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্প চালু হওয়া নিয়ে আগের সরকারকে ফের আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি রাজ্যে কার্যকর না করায় এতদিন বহু মানুষ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বর্তমানে প্রায় ৭ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষের আগের এনরোলমেন্ট রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২ লক্ষের বেশি কারিগর এই প্রকল্পে আবেদন করেছেন। আগামী দিনে রাজ্যে পাঁচ লক্ষের বেশি মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: জন্মদিনে শুভেচ্ছায় ভাসলেন মোদি: রাষ্ট্রপতির প্রশংসা থেকে শাহের পুজো, নজর কাড়ল শুভেন্দুর কোলাজ

প্রকল্পের বাস্তবায়নে পঞ্চায়েত স্তরের ভূমিকা নিয়েও এদিন উষ্মা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। আগে এই প্রকল্প সংক্রান্ত  যে দায়িত্ব গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানদের হাতে ছিল, তা বদলে বর্তমানে পঞ্চায়েত সচিবদের দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে প্রকল্প চালু হওয়ার পর ইতিমধ্যেই ৩ হাজারের বেশি বিশ্বকর্মা অনুমোদন পেয়েছেন বলেও জানান তিনি। কারিগরদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আরও প্রশিক্ষক পাঠানোর আবেদন কেন্দ্রের কাছে করবেন বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

গত মে মাসে রাজ্যে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালুর কথা ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। সেই তালিকায় ছিল পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্পও। এরপর তিন দফার যাচাই প্রক্রিয়া শেষ করে উপভোক্তাদের নথিভুক্তকরণ এবং দক্ষতা প্রশিক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে।

ধনধান্য অডিটোরিয়ামের অনুষ্ঠানে এদিন উপভোক্তাদের হাতে পিএম বিশ্বকর্মা শংসাপত্র, ঋণের শংসাপত্র এবং টুলকিট তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি কারিগরদের তৈরি সামগ্রীর প্রদর্শনী ও বিক্রিরও আয়োজন করা হয়েছে। তাঁদের তৈরি পণ্য যাতে আরও বড় বাজারে পৌঁছতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্পের তিন বছরে সারা দেশে প্রায় ৩০ লক্ষ উপভোক্তার নথিভুক্তকরণ সম্পূর্ণ হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২৪.৫০ লক্ষ সুবিধাভোগী প্রাথমিক দক্ষতা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। এবার বাংলায় প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় রাজ্যের কারিগর ও ক্ষুদ্র উদ্যোগীদেরও এই প্রকল্পের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হল।