রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। বুধবার দক্ষিণবঙ্গের ৮টি জেলার মোট ১৪২টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ হতে চলেছে। এই দফায় নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান এবং খোদ তিলোত্তমার দুই জেলা কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণে ভোট দেবেন ভোটাররা। সোমবার প্রচারের শোরগোল থামার পর থেকেই নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতা এখন তুঙ্গে।
বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার মহারণ, ১৪২ আসনে ভোটগ্রহণ কলকাতা-সহ ৮ জেলায়
Sponsored

দ্বিতীয় দফার এই নির্বাচনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৪৪৮। এর মধ্যে মহিলা প্রার্থী রয়েছেন ২২০ জন। নজিরবিহীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমিশন গোটা এলাকায় মোট ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি রাজ্য ও ভিনরাজ্যের পুলিশ বাহিনীও ভোটকেন্দ্রে কড়া নজরদারি চালাবে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, প্রথম দফার শান্তিপূর্ণ অভিজ্ঞতার রেশ বজায় রাখতেই প্রশাসন ও বাহিনী কোমর বেঁধে নেমেছে। ভোটারদের নির্ভয়ে বুথে আসার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দফায় মোট ৪১ হাজার ১টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র থাকছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মহিলা পরিচালিত বুথের সংখ্যা রাখা হয়েছে ৮ হাজার ৮৪৫টি। এছাড়া বিশেষ ভাবে সক্ষম কর্মীদের পরিচালিত ১৩টি কেন্দ্র এবং ২৫৮টি মডেল কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সী নতুন ভোটারের সংখ্যা ৪ লক্ষ ১২ হাজার ৬৬৮। পাশাপাশি ১০০ বছরের ঊর্ধ্বে ৩ হাজার ২৪৩ জন প্রবীণ ভোটারও তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করবেন।
কলকাতার ১১টি আসনে ভোট ঘিরে প্রশাসনের প্রস্তুতি আলাদা নজর কেড়েছে। উত্তর কলকাতায় ভোটার সংখ্যা ১০ লক্ষ ৮৪ হাজারের কিছু বেশি এবং দক্ষিণ কলকাতায় এই সংখ্যা প্রায় পৌনে ৭ লক্ষ। মঙ্গলবার থেকেই ডিসিআরসি থেকে ইভিএম ও ভিভিপ্যাট সংগ্রহ করে ভোটকর্মীরা নির্দিষ্ট কেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছেন।
ভোটের দিন যানজট এড়াতে এবং নিরাপত্তা বজায় রাখতে কলকাতায় যান চলাচলে একাধিক বিধিনিষেধ জারি করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ও বুধবার ভোর ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কসবা, আলিপুর, হরিশ মুখার্জি রোড এবং হাজরা রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বিশেষ করে গণনাকেন্দ্র ও সংলগ্ন এলাকায় বাস ও অটো চলাচলের পথ পরিবর্তন করা হয়েছে। অকল্যান্ড রোড ও লর্ড সিন্হা রোডের মতো রাস্তায় যান চলাচলে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
আয়তনের নিরিখে কল্যাণী বড় কেন্দ্র হলেও ভোটার সংখ্যার নিরিখে নজর কাড়ছে চুঁচুড়া। অন্যদিকে, ভাঙড় আসনে এবার ১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা এই দফার মধ্যে সর্বোচ্চ। সব মিলিয়ে কড়া পুলিশি ঘেরাটোপ ও প্রশাসনিক সতর্কতার মধ্যে দ্বিতীয় দফার এই ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে কোমর বেঁধে নেমেছে কমিশন।
আরও পড়ুন - বাতিল হয়েছিল ১২ লক্ষ রেশন কার্ড: ঝাড়খণ্ডে SIR শুরুর আগে শিক্ষা নিয়ে সতর্ক হেমন্ত
_
_
_
_
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













