কাটমানি, সিন্ডিকেট এবং তোলাবাজির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি নতুন তিন আইনের প্রয়োগে ‘৩T’-এর কথা বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার শিলিগুড়ির কাওয়াখালি গ্রাউন্ডে নতুন তিন আইন নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে Technology, Transparency এবং Timeline—এর কথা।
আরও পড়ুন: ছররা-কাণ্ডে FIR দায়েরের দাবিতে ধর্নায় রাহুল-প্রিয়াঙ্কা
শাহের বার্তা, প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত ন্যায়বিচার পৌঁছে দিতে হবে। একইসঙ্গে দুর্নীতি, কাটমানি, সিন্ডিকেট এবং তোলাবাজির মতো অভিযোগের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। এই ধরনের অভিযোগ জানাতে আলাদা আলাদা টোল-ফ্রি নম্বর চালু করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ ওই নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে দ্রুত বাড়ছে সোয়াইন ফ্লু আতঙ্ক! আক্রান্ত হাজারের বেশি
এদিনের বক্তব্যে রাজ্যের প্রাক্তন সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন শাহ। তাঁর দাবি, একসময় রাজ্যে ‘ক্যাডারের রাজ’ ছিল, পরে ‘গুণ্ডাদের ক্যাডাররাজ’ চলেছে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। কাটমানি প্রসঙ্গে শাহ বলেন, যারা কাটমানি নেয়, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং জেলের পিছনে পাঠানো বিজেপি সরকারের দায়িত্ব। একইসঙ্গে সিন্ডিকেট এবং তোলাবাজির বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপের বার্তা দেন তিনি। সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তাঁর আহ্বান, এই ধরনের কোনও ঘটনা নজরে এলে নির্দিষ্ট টোল-ফ্রি নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানাতে হবে।
আরও পড়ুন: ফিরে দেখা, ICCR-এ 'উত্তম—দ্য মহানায়ক'
অনুপ্রবেশ নিয়ে শাহ বলেন, "যারা শরণার্থী, তারা সম্মানের সঙ্গে এখানে থাকতে পারবে। তবে প্রত্যেক ঘুসপেঠিয়াকে চিহ্নিত করে আমরা ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট করব।" সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করার পাশাপাশি অনুপ্রবেশ রুখতেও কেন্দ্র কঠোর অবস্থান নেবে বলে জানান তিনি।
এদিন সীমান্ত সুরক্ষা নিয়েও রাজ্যের প্রাক্তন সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ২০১৪ সাল থেকে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য ১,১২৯ একর জমি চাওয়া হলেও দীর্ঘদিন তা পাওয়া যায়নি। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বারবার আবেদন করেও কোনও ফল হয়নি বলে অভিযোগ করেন শাহ। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরই সেই জমি পাওয়া গিয়েছে। সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য জমি দেওয়ায় বর্তমান রাজ্য সরকারের প্রশংসাও করেন তিনি।
পাশাপাশি, ভিন্রাজ্যে আলু বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন শাহ। বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে তাঁর আরও দাবি, ‘সংকল্প পত্রে’ পাঁচ বছরে পূরণের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার ৪৩ শতাংশই সরকার ক্ষমতায় আসার ১০০ দিনের মধ্যে পূরণ হয়েছে।
















