পুজোর আগেই কলকাতায় ফুটবলের মহাভোজ। ব্রাজিল, উরুগুয়ের পাশাপাশি কলকাতায় আসছে মহিলা রাশিয়া দল। তারকা-খচিত ব্রাজিলকে সামনে রেখে ম্যাচের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে শহর জুড়ে। মেসি কাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে মেগা ম্যাচ আয়োজনে বাড়তি সতর্ক রাজ্য সরকার এবং পুলিশ প্রশাসন। মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন থেকে একগুচ্ছ নির্দেশিকা দেওয়া হল পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
ব্রাজিল উরুগুয়ে ম্যাচ ঘিরে সেজে উঠছে যুবভারতী। নীল সাদা অতীত। যুবভারতীতে এখন গেরুয়ার ছোঁয়া। পরিকাঠামো ঢেলে সাজানো হচ্ছে। নতুন ডাগ আউট হচ্ছে। গোল পোস্টের দুই ধারে জায়েন্ট এলইডি স্ক্রিন লাগানো হবে।এই প্রথমবার যুবভারতীর প্রতিটি সিটে থাকছে নাম্বার। অর্থ্যাত যে দর্শকের জন্য যে আসন বরাদ্দ সেই আসনেই বসতে হবে।
এবার অনলাইন ডিজিটাল টিকিট থাকছে। তাতে সিট নাম্বারিং থাকবে। যাতে কোনো কারচুপি বা জালিয়াতি না হয়। মঙ্গলবার দুপুরে মাঠ পরিদর্শন হয়। যা দেখে খুশি ব্রাজিল থেকে আসা প্রতিনিধি দল। শুধু প্লেয়ারদের জন্য নয়, এবার দর্শকদের জন্যও থাকবে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা। উইল চেয়ারের বন্দোবস্তও থাকছে। গ্যালারির বিভিন্ন অংশে থাকছে ফুট কোর্ট। মেসি ম্যাচের মতো কালোবাজারি হবে না বলেই জানিয়েছেন ক্রীড়া মন্ত্রী। খাবার মিলবে নায্য মূল্যেই। এমনকি কাগজের গ্লাসে বিনামূল্যেই পাওয়া যাবে পানীয় দল। সব মিলিয়ে, একটি ফিফা আন্তর্জাতিক ম্যাচে যা থাকে, সেই সব ব্যবস্থাই থাকবে ভারত-ব্রাজিল এবং ভারত-উরুগুয়ে ম্যাচে।

সেখানে যুবভারতীর দর্শকআসন ৬০ হাজারের বেশি। এই ম্যাচের জন্য স্টেডিয়ামের একটা সিটও বাদ রাখা হচ্ছে না ফলে সংখ্যা হচ্ছে ৬৮ হাজার। গ্যালারির সিটে থাকবে তিরঙ্গার ছোঁয়া। তারওপর টিকিটের চড়া দাম। এখনও পর্যন্ত কত টিকিট বিক্রি হয়েছে? এই বিষয়ে কিছু জানাননি ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ এবং ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে।
দর্শকদের বিপুল ভিড়ের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তার উপরেও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। ম্যাচ ঘিরে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তরফে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সেজে উঠছে মাঠ থেকে সাজঘর, ব্রাজিল বরণে তৈরি যুবভারতী, দর্শকদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা
শুধু মাঠ নয় নবরূপে সেজে উঠছে যুবভারতীর সাজঘরও। ড্রেসিংরুমে এখন চলছে শেষ মুর্হুতের প্রস্ততি। যুবভারতীয় ড্রেসিংরুমে আন্তর্জাতিকতার ছোঁয়া। চলছে ড্রেসিংরুমের প্লেয়ারদের জায়গা তৈরি। প্রত্যেক প্লেয়ারের মুখ ও ছবি দিয়েই তাঁদের ড্রেসিংরুম সাজাচ্ছেন কর্মীরা। ড্রেসিংরুমে প্রত্যেকের বসার জায়গাতেই বসছে ছবি। ভিনিসিয়াস, এন্ড্রিক ও রাফিনহা – এই তিনজনের বসার জায়গা একসঙ্গে পরপর রাখা হয়েছে।
এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট আঁটোসাঁটো রাখা হচ্ছে। বিধাননগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ২ হাজার পুলিশ থাকবে মাঠে। স্বেচ্ছাসেবক-সহ প্রায় তিন হাজার পুলিশ মোতায়ন থাকবে। যার মধ্যে থাকছে পুলিশের ব়্যাফ বাহিনী। এছাড়াও থাকছে কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি। মাঠে ছাতা থেকে জলের বোতল, বাজি একগুচ্ছ জিনিসে নিষেধাজ্ঞা থাকছে। যানযট যাতে না হয় সেই দিকেও লক্ষ রাখা হবে। সব মিলিয়ে পুলিশ প্রশাসনের কাছেও বড় চ্যালেঞ্জ এই দুটি মেগা ম্যাচ সফলভাবে আয়োজনের।
















